ফরিদপুর: পূর্ব বিরোধের জের ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত সুমন ভাঙ্গা বাজারের রেস্টুরেন্ট শ্রমিক। তিনি কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে। এ ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
এর আগে, বুধবার সকাল ১১টায় সুমন শেখের হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেফতার এবং বিচারের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির আশ্বাস দিলে সড়ক থেকে সরে যায় বিক্ষোভকারীরা।
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহতের ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবার মরদেহ দাফনে ব্যস্ত থাকায় লিখিত অভিযোগের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া যুবক নিহতের ঘটনায় ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়ক এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গতকাল ৩০ জুন রাত ৮টার দিকে জেলার ভাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ গুলির ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যাবৎ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। আর গুলিবিদ্ধ সুমন শেখ রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।