গাইবান্ধা: জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
উপজেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনার ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কসহ আশপাশের ৫০০ মিটার এলাকার মধ্যে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে তাদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলের দুই ভাগ্নে কাকন ও নিয়ন বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিনকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল, বরিশাল ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মিল্লাত সরকার মিলন, পলাশবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহীন, সাধারণ সম্পাদক তাবিজ, জবা ডাবলু, রাকিবুল হাসান মনা, জাকিরসহ উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’