Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস, অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে কঠোর শাস্তি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ১৮:৫৬ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ২০:০৮

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ঢাকা: ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া রুখতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
এই নতুন আইনটি প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ আইনটি বাতিল করে যুগোপযোগী করা হয়েছে।

নতুন পাস হওয়া এই বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান দেড় শতাধিক বছরেরও বেশি পুরোনো আইনি কাঠামো ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। এ কারণেই পুরোনো আইনটি রহিত করে কঠোর সাজার বিধান রেখে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, “নতুন এই আইনে ‘অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া’, ‘অনলাইন বেটিং’ (স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং ইত্যাদি), ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’, ‘ঘোস্ট সিম’ এবং ‘ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট’ বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”

আইনে বলা হয়েছে, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া জুয়ার সরঞ্জামাদি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট কর্তৃক পরিচালিত হবে।’

সারাবাংলা/এফএন/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর