ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ ও সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে সংঘর্ষ তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়; বন্ধ রয়েছে কালীকচ্ছ বাজারও।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪৫) ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার (৫৫) মধ্যে অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উভয় গ্রামের শতাধিক মানুষ লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের সময় বল্লমের আঘাতে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল হকের ছেলে হাদিম মিয়া নিহত হন। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতের দাফনের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত তরুণ-যুবক কালীকচ্ছ বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বাজারের অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরে পুলিশ সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও গভীর রাতে আবারও কয়েকটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আশপাশের চার থেকে পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারাও যোগ দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা বাজারে লুটপাটের প্রস্তুতি নিলে সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা, বাজারের ব্যবসায়ী ও তাদের সমর্থকেরা পাল্টা ধাওয়া দেয়। এতে কালীকচ্ছ বাজার এলাকা আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল পৌনে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষের কারণে কালীকচ্ছ বাজারের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবাইদুর রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’