Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গাইবান্ধায় ৩ নদীর ভাঙনে বিলীন বিস্তীর্ণ জনপদ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ১৬:৪৮

নদীভাঙনের চিত্র।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। নদীর পানি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। এ কারণে নদীতীরের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। কয়েকটি তীররক্ষা বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, বেলকা, চণ্ডীপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তিস্তার ভাঙনে অসংখ্য পরিবারের বসতভিটা এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একইভাবে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী, কামারজানি ও মোল্লারচর এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর এবং উড়িয়া ইউনিয়নের কাঁটাতার এলাকায় ভাঙনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বালাসী ফেরিঘাটও হুমকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী থেকে হলদিয়া পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় আসন্ন বন্যা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি বছর নদীভাঙনে তারা জমি ও ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন। অনেক পরিবার অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। কয়েকটি এলাকায় এরইমধ্যে একাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্কুল, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং শত শত পরিবার এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যা ও ভাঙনে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। শিগগিরিই প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।’

এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর পানি ওঠানামার কারণেই ভাঙন বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি অসমাপ্ত বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’