টাঙ্গাইল: জেলায় শিশু ছেলেকে হত্যার দায়ে মা-কে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-১ এর বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই মায়ের নাম আয়না বেগম (২৪)। সে মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং দেলদুয়ার উপজেলা লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে।
রায়ে আয়না বেগমকে তার শিশু পুত্র হত্যার দায়ে ১০ বছর এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে ৩ বছরসহ মোট ১৩ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইলের সরকারী কৌশুলী (পিপি) শফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন জানান, আয়না বেগম সন্তান জন্মের পর তার বাবার বাড়ি লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম সংবাদ পান যে, তার ১৮ দিন বয়সের শিশু পুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ খবর পাওয়ার পর তিনি তার শ্বশুড়বাড়ি লাউহাটী গ্রামে যান।
খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শশুর বাড়ির পাশের খালের পানিতে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮ দিনের শিশু রায়হানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পরে জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তার স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার উপ পরিদর্শক মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিগত ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়।