Friday 26 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

লক্ষ্মীপুরে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যা / নিহতদের জানাজা সম্পন্ন, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুন ২০২৬ ২০:২৬ | আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ২০:২৮

নিহতদের জানাজায় মানুষের ঢল।

লক্ষ্মীপুর: জেলার রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তার ৩ মেয়ের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এরইমধ্যেই ৫ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কে নিহত মা ও ৩ মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে নিহত শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফার মরদেহ নিয়ে স্বজনরা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানেই তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

তাদের জানাজায় রায়পুরের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। জানাজায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মিয়া।

এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল, রায়পুর পৌর জামায়াতের আমির ফজলুল করিম, নায়েবে আমির কামাল উদ্দিন, রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতেই রায়পুরে ছুটে আসেন তাদের স্বজনরা। জানাজার নামাজে নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত, তার নানা দাদন মিয়া, মামা ছানা উল্লাহ ও চাচা জামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে,বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভা এলাকায় ধানহাটা নদীর পাড়ের সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের ৫তলা ভবনের নিচতলার বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসায় ঢুকে মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড চলাকালে ভেতর থেকে চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে ঘাতককে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানি। তিনি বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে থেকে বাসার প্রধান গেটটি আটকে দেন। এতে ঘাতক অন্তর মজুমদার ভেতরেই আটকে পড়ে।

এদিকে আটকে পড়া ঘাতক অন্তর ছাদ দিয়ে পাশের ভবনে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় জনতা চারদিক থেকে ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘাতক অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় গণপিটুনিতে নিহত মূল ঘাতক অন্তর মজুমদার ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার নেপথ্যের কারণ ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

ওসি আরও জানান, ৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এরইমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৫ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

সারাবাংলা/এসআর/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর