সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নে ছুরিকাঘাতের এ ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৩ জুন) সকালে ওই যুবকের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নিহত যুবকের নাম মো. পলাশ (২৬)। তিনি পাকুরিয়া গ্রামের পাষান শেখের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মো. পলাশ ও কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. জামাল মোল্লার ছেলে কামিরুল হাসান (২১) শুক্রবার রাতের দিকে কালিয়া হরিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. দেলোয়ার শেখের ছেলে জুয়েল শেখের বাড়িতে যান। জুয়েল শেখের কাছে তাদের কিছু টাকা পাওনা ছিল এবং পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেই টাকা পরিশোধের কথা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাত প্রায় ৯টার দিকে টাকা পরিশোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামিরুল হাসান আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, জুয়েল শেখ তার ডান হাতে ছুরিকাঘাত করেন। একই সময়ে হৃদয় (১৮) নামের এক যুবক পলাশের ওপর হামলা চালিয়ে তার পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পলাশের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় পলাশের।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, জুয়েল শেখ ও পলাশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। পরবর্তীতে সেই বিরোধকে কেন্দ্র করেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়, যা শেষপর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, সামান্য আর্থিক বিরোধের জেরে এ ধরনের সহিংসতা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিব হাসান বলেন, ‘ঘটনার খবর পুলিশ পেয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’