Friday 05 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৫ জুন ২০২৬ ০৯:৪৭ | আপডেট: ৫ জুন ২০২৬ ১০:৪০

দুর্ঘটনাস্থলের ছবি।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অটোভ্যানে থাকা স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৬টার দিকে বেলকুচি-এনায়েতপুর সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন বেলকুচি উপজেলার আজওপাড়া গ্রামের নুর ইসলাম (৩০), ও তার স্ত্রী ফুজিলা খাতুন (২৮) এবং একই গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে মো. মোতালেব (৭৫)।

আহত তামান্না নামে এক নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে অটোভ্যানটি মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকার সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ এর এক্সেল ভেঙে যায়। এতে ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ঢাকা এক্সপ্রেস নামের একটি বাস ভ্যানটিকে চাপা দিলে দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।

এনায়েতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান। আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মেঘুল্লা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘খুবই ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনা ছিল এটি। মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামী-স্ত্রী দুজনই প্রাণ হারিয়েছেন। এমন দৃশ্য আমরা আগে দেখিনি।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। ফলে ছোট যানবাহনের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।’

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু ও একজন গুরুতর আহত হওয়ায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বেলকুচি-এনায়েতপুর সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ট্রাফিক তদারকি জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর