মৌলভীবাজার: জেলার জুড়ি উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুচাই চা-বাগান এলাকায় ভয়াবহ বজ্রপাতে ১৩টি গরু ও একটি মহিষ মারা গেছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুচাই জ্বালাই ও পাথরটিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গৃহপালিত পশুগুলোকে সবুজ মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে শুরু হয় বজ্রবৃষ্টি। এ সময় বজ্রপাতে ১৪টি গবাদি পশু মারা যায়।
বজ্রপাতে মৃত গরুর মালিকরা সবাই চা-শ্রমিক এবং তারা আর্থিকভাবে খুবই অসচ্ছল বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন- রবি মুন্ডা, কালাচান মুন্ডা, বুধুলাল মুন্ডা, রাজেন মুন্ডা, মক্র মুন্ডা, চিনিলাল মুন্ডা ও বিরসা মুন্ডা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, বজ্রপাতে অন্তত ২৫ লাখ টাকার গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ৮নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে সারাবাংলাকে বলেন, ‘চা-বাগান অধ্যুষিত এই এলাকার চা-শ্রমিকদের পরিবারগুলোর গরু লালনপালন জীবিকা নির্বাহের একটি অন্যতম অবলম্বন। এই গ্রামে এমনও পরিবার আছে; যাদের একটি গবাদিপশু শেষ অবলম্বন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে আজ তারা সেটা হারিয়ে ফেলেছে।’
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে আলাপ করে আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
জুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নূর সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে একসঙ্গে অসহায় পরিবারগুলোর এতগুলো গবাদিপশুর মৃত্যু সত্যি বেদনাদায়ক। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক কৃষকের তালিকা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। সরকার কৃষকের পাশে দাঁড়াবে।’