রাজবাড়ী: ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাটিচাপা দেওয়া মা ও শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ইউনিয়নের যতীন বৈদ্যের পাড়ায় হাকিম মোল্লার পুকুর পাড় থেকে মরদেহ নিয়ে কুকুরের টানাটানির ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩২) এবং তার ৪ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া। নিহতের স্বামী আমজাদ স্থানীয় একটি ইট ভাটার শ্রমিক। আমজাদ এর প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর জাহানাকে বিয়ে করে সে। এছাড়া নিহত জাহানা আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা গ্রামের লালন মোল্লার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের একটি নির্জন পুকুর পাড়ে কুকুর মরদেহ টানাটানি করার সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পান। সেখানে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ চাপা দিয়ে কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহগুলো আংশিক গলিত ও বিকৃত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা মা ও শিশুকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।
নিহতের স্বামী আমজাদ মোল্লা জানান, গত ৪ মে বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার ভাগনে আলা খাঁ এর চল্লিশা অনুষ্ঠানে যায় জাহানা। ফেরার সময় অন্যদের বিদায় জানিয়ে শিশু কন্যা সামিয়াকে নিয়ে ওষুধ কিনতে হামেদ খাঁর বাজারে যায়। এরপর আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
নিহত জাহানারার শ্বশুর আব্দুর রব জানান, দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে আর বাড়ি ফিরে আসেনি তার পুত্রবধূ ও নাতি। জাহানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গোয়ালন্দ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে করেন তারা। তার ছেলে ও ছেলের বউ ইটভাটায় কাজ করার সময় উজ্জল নামের এক যুবকের সম্পর্ক গড়ে উঠার অভিযোগ করে তিনি। এছাড়া উদ্ধার হওয়া মরদেহের পাশে উজ্জলের বাড়ি রয়েছে বলে জানান তিনি।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জামাল মোল্লা জানান, আমজাদ ইটের ভাটায় কাজ করত। মাঝে মাঝে জাহানাও যেত সেখানে। ইটের ভাটায় উজ্জ্বল নামের এক ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলাও হয়েছিল। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের স্থানের কাছেই সেই যুবকের বাড়ি। এ ঘটনার সঙ্গে উজ্জ্বলের সম্পৃক্ততা আছে কি না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এসে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।