মেঘলা আকাশ, টুপটাপ বৃষ্টি আর এক চিলতে শীতল বাতাস, বর্ষার এই রূপ কার না ভালো লাগে! আর ঘরের ভেতর বসে এই বাদল দিন উপভোগ করার সবচেয়ে পারফেক্ট জায়গা হলো বাড়ির বারান্দা। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা বা কফি হাতে বৃষ্টি দেখার আনন্দই আলাদা। তবে বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সঠিক যত্ন না নিলে শখের বারান্দাটিই আবার দ্রুত মলিন ও অগোছালো হয়ে যেতে পারে। তাই খুব বেশি খাটুনি ছাড়াই সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বর্ষায় আপনার বারান্দাকে করে তুলতে পারেন অনন্য ও আরামদায়ক।
আসুন জেনে নেই, খুব বেশি খরচ বা বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই কয়েকটি সহজ উপায়ে আপনি বর্ষার জন্য বারান্দাকে কিভাবে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক করে তুলতে পারেন, সেই টিপস…
বৃষ্টি সহনশীল গাছ নির্বাচন
সব গাছ একরকম বৃষ্টি বা অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। তাই বর্ষাকালের জন্য এমন গাছ বেছে নিন, যেগুলো আর্দ্র পরিবেশে সহজেই বেড়ে ওঠে। ফার্ন, আরেকা পাম, মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, পিস লিলি কিংবা স্পাইডার প্ল্যান্টের মতো গাছ বর্ষায় বেশ ভালো থাকে। এসব গাছ বারান্দায় সবুজ সতেজ পরিবেশ তৈরি করে এবং এগুলোর খুব বেশি যত্নেরও প্রয়োজন হয় না।
পানি-প্রতিরোধী আসবাব ব্যবহার
যদি আপনার বারান্দা খোলা থাকে, তাহলে কাঠের আসবাবপত্র ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ বৃষ্টির ছাঁটে কাঠ দ্রুত নষ্ট ও স্যাঁতসেঁতে হতে পারে। এর পরিবর্তে প্লাস্টিক, বেত, অ্যালুমিনিয়াম বা স্টিলের পানি-প্রতিরোধী চেয়ার ও টেবিল ব্যবহার করুন। এগুলো সহজে নষ্ট হয় না এবং ভিজে গেলে মুছে পরিষ্কার করাও বেশ সহজ।
রঙিন টবে সাজান বারান্দা
একই রঙের টব ব্যবহার না করে বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের প্ল্যান্টার ব্যবহার করুন। এতে ছোট বারান্দাও অনেক বেশি প্রাণবন্ত দেখায়। টবগুলো সরাসরি মেঝেতে না রেখে স্ট্যান্ডের ওপর রাখলে নিচে পানি জমে থাকে না এবং গাছের শিকড়ও ভালো থাকে। পাশাপাশি বারান্দা দেখতেও বেশ গোছানো লাগে।
শৌখিন ও হালকা পরিবর্তন
বর্ষার আবহকে আরও উপভোগ্য করতে বারান্দায় ছোটখাটো সাজসজ্জা রাখতে পারেন। রঙিন কুশন, ছোট টি-টেবিল, বাঁশের ঝুড়ি কিংবা উইন্ড চাইম বারান্দার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। তবে কাপড়, ফোম বা কাঠের এমন কোনো জিনিস বাইরে রাখবেন না, যা বৃষ্টিতে ভিজে সহজেই নষ্ট বা ড্যাম্প হয়ে যেতে পারে।
পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখা
বর্ষাকালে বারান্দার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পানি জমে যাওয়া। তাই ড্রেন বা পানি বের হওয়ার ছিদ্র সবসময় পরিষ্কার রাখুন। গাছের টব এমনভাবে রাখুন, যাতে পানি বের হতে কোনো বাধা না পায়। নিয়মিত ঝরে পড়া পাতা বা ময়লা পরিষ্কার করলে জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব কমবে।
আলোর চমৎকার ব্যবহার
মেঘলা আবহাওয়ায় দিনের বেলাতেও বারান্দা অনেক সময় অন্ধকার দেখায়। পরিবেশটা জমিয়ে তুলতে বারান্দায় ব্যাটারিচালিত বা সোলার ফেয়ারি লাইট ব্যবহার করতে পারেন। সন্ধ্যার পর এই নরম আলো বারান্দাকে আরও আরামদায়ক ও রোমান্টিক করে তুলবে। চাইলে ছোট এলইডি লণ্ঠনও ঝুলিয়ে দিতে পারেন।
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
বর্ষাকালে ধুলাবালির পরিবর্তে কাদা ও শ্যাওলা জমার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার বারান্দার মেঝে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। টবের নিচে জমে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দিন এবং মেঝে শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। এতে কোনো দুর্গন্ধ হবে না, আবার পিচ্ছিল হয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
কয়েকটি সবুজ গাছ, পানি-প্রতিরোধী আসবাব আর এক টুকরো নরম আলোর ছোঁয়ায় আপনার ছোট বারান্দাটিও হয়ে উঠতে পারে চমৎকার এক রিফ্রেশমেন্ট জোন। ব্যস্ত জীবনে ক্লান্তি দূর করতে কিংবা বৃষ্টিভেজা অলস বিকেলগুলোকে মায়াবী করে তুলতে বারান্দার এই ছোট্ট ভোলবদল কিন্তু দারুণ ভূমিকা রাখবে। তাই আর দেরি না করে, এই বর্ষায় নিজের ঘরের বারান্দাটিকেই সাজিয়ে নিন আপনার মনের মতো করে!