Monday 24 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অদ্ভুত সুরের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার দিন আজ

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৪ আগস্ট ২০২৬ ১৯:১৯

কানের কাছে চেনা কোনো মিষ্টি সুর বাজলে মনটা যেমন জুড়িয়ে যায়, তেমনই হুট করে যদি খুব অদ্ভুত, বেখাপ্পা কিংবা অচেনা কোনো শব্দ ভেসে আসে, তবে কি চমকে ওঠেন! আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চেনা প্লেলিস্টে তো সব সময় একই ধরনের মেলোডি, রবীন্দ্রসংগীত, পপ কিংবা রক গানের চেনা রুটিনঘোরা আয়োজন থাকে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, রান্নাঘরের হাঁড়ি-পাতিলের ঠুং-ঠাং শব্দ, জানালার কাছে বাতাসের শিস কাটা, কিংবা কোনো পুরনো স্টিলের পাইপে আঙুলের টোকা দেওয়ার মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে এক অদ্ভুত সুন্দর সুর! সঙ্গীত তো কেবল সাতটি চেনা সুরের নিখুঁত বিন্যাস নয়, সঙ্গীত হলো আবেগ ও অনুভূতির মুক্ত প্রকাশ। আমাদের চেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে সেই অচেনা, অদ্ভুত আর অদ্ভূতুরে সুরগুলোকে ভালোবেসে বুকে টেনে নেওয়ার নামই হলো আসল সঙ্গীতপ্রেম। কানকে একটুখানি নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে আর মনের দরজাগুলোকে অচেনা ছন্দের জন্য খুলে দিতেই হাজির হয় এই বিশেষ দিনটি। ২৪ আগস্ট ‘অদ্ভুত সঙ্গীত দিবস (Strange Music Day)’।

বিজ্ঞাপন

এক ব্যতিক্রমী শিল্পীর ভাবনা

চেনা সুরের বাইরে গিয়ে অচেনাকে ভালোবাসার এই অদ্ভুত সুন্দর ধারণার পেছনে রয়েছেন এক নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার প্যাট্রিক গ্রান্ট। ১৯৯৮ সালে তিনি প্রথম এই ব্যতিক্রমী দিবসটির প্রবর্তন করেন। নতুন কোনো সুর বা সঙ্গীত তৈরির সময় প্যাট্রিক লক্ষ্য করেছিলেন, মানুষ সাধারণত নিজেদের পরিচিত ছন্দের বাইরে নতুন বা অন্য ধারার গান শুনতে বেশ দ্বিধাবোধ করে। তিনি চেয়েছিলেন মানুষকে তাদের সেই গণ্ডিবদ্ধ চিন্তাধারা থেকে বের করে আনতে। তাঁর স্পষ্ট দর্শন ছিল, “কোনো পূর্বধারণা ছাড়াই যেকোনো অদ্ভুত শব্দ বা সুর শুনুন, হয়তো সেটাই আপনার প্রিয় হয়ে উঠবে।” ১৯৯৮ সালের সেই পথচলা শুরু থেকে আজ অব্দি প্রতি বছর অত্যন্ত কৌতূহল ও উদ্দীপনার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। আজ ২৪ আগস্ট বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে স্ট্রেঞ্জ মিউজিক ডে বা অদ্ভুত সঙ্গীত দিবস। বিগত আড়াই দশক ধরে সঙ্গীতের সীমানা ভেঙে নতুন নতুন অদ্ভুত সুরের চর্চা ছড়িয়ে দিতেই এই দিনটির আয়োজন।

নৈশব্দের ভেতর অন্য সুর

অদ্ভুত সঙ্গীত মানে কিন্তু কেবল কোনো ভৌতিক বা কর্কশ আওয়াজ নয়। এর মূল মূলসুর লুকিয়ে রয়েছে অপ্রচলিত বাদ্যযন্ত্র আর পরীক্ষামূলক সুরের ভেতরে। এই দিনে মানুষ ট্র্যাডিশনাল গিটার বা পিয়ানোর বদলে থেরেোমিন, জিউস হার্প, কিংবা থেরাপিউটিক বাউলের মতো বিরল সব বাদ্যযন্ত্রের সুরে মেতে ওঠে। অনেকে আবার প্রকৃতির নানাবিধ শব্দ, যেমন বৃষ্টি ঝরার রিমঝিম শব্দ, ট্রেনের কড়া হুইসেল বা কারখানার যন্ত্রের একটানা গুঞ্জনকে একসাথে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করেন অসাধারণ সব ফিউশন মিউজিক। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের চেনা কানকে একটুখানি চ্যালেঞ্জ করা এবং এমন কিছু শোনা যা আগে কখনো জানা ছিল না। আধুনিক যুগের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ঘরানার ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ ও ‘অ্যাভান্ট-গার্ড’ মিউজিক শুনে কিংবা ঘরের চেনা জিনিসপত্র দিয়েই অদ্ভুত কোনো সুর তৈরি করে এই উদযাপনকে আরও বেশি প্রাণবন্ত ও রঙিন করে তোলা যায়।

ছন্দের নতুন ভুবন

সঙ্গীতের জগৎটা সত্যি বিশাল এবং তার কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা বা ধরাবাঁধা নিয়ম দিয়ে তাকে আটকে রাখা যায় না। এই দিনটি আমাদের শেখায় জীবনের প্রতিটি অদ্ভুত আর ব্যতিক্রমী বিষয়ের মধ্যেও সৌন্দর্য খুঁজে নেওয়ার শিল্পকে। যা কিছু চেনা ছকের বাইরে, তা-ই যে বাজে বা বর্জনীয় এই ভুল ধারণাকে দূর করে দেয় অদ্ভুত সঙ্গীত দিবস। চেনা সুরের পথ ছেড়ে একটু অচেনা গলিতে হাঁটলে যেমন নতুন এক পৃথিবীর সন্ধান পাওয়া যায়, ঠিক তেমনই অচেনা সুরের মাঝে কান পাতলে খুঁজে পাওয়া যায় জীবনের এক নতুন ছন্দ। আসুন, আজ ২৪ আগস্টের এই ভিন্নধর্মী দিনে আমাদের কানের প্লেলিস্টটাকে একটু বদলে নিই। সব ছকভাঙা অদ্ভুত শব্দকে সঙ্গী করে বলি, জীবনের এই অচেনা সুরটাও কিন্তু বড্ড অদ্ভুত আর সুন্দর।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর