Saturday 22 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দেবদূত হয়ে কারও মুখে এক চিলতে হাসি ছড়িয়ে দিন আজ

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৪৯

সকালের ব্যস্ত শহরের তীব্র যানজটে আটকে থেকে আমরা যখন ঘড়ির কাটার সঙ্গে রেস খেলি, তখন পাশের ফুটপাতে বসা গৃহহীন লোকটার তৃষ্ণার্ত মুখের দিকে তাকানোর সময় কি আমাদের থাকে! কিংবা দীর্ঘ দিন ধরে একা ঘরে বন্দি থাকা বৃদ্ধ প্রতিবেশীটির খবর নেওয়ার কথা কি আমরা একবারও ভাবি! জীবনের অন্তহীন কায়িক দৌড়াদৌড়ি আর যান্ত্রিকতার চাপে আমরা বড্ড বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। কিন্তু এই কাটখোট্টা আধুনিক পৃথিবীর আড়ালেও লুকিয়ে থাকে এক টুকরো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, এক ফোঁটা পরম মমতার গল্প। পৃথিবীর বিশাল কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, ছোট্ট একটা উপহার, একটুখানি মিষ্টভাষণ কিংবা স্রেফ একটা হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই বদলে দেওয়া যায় কারও মনখারাপের চেনা ক্যানভাস। আমাদের ভেতরের সেই পরম সুপ্ত মানবিকতা আর ভালোবাসার আলোটাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতেই পৃথিবীর ক্যালেন্ডারে রয়েছে এক অদ্ভুত সুন্দর দিন। কারণ দিনশেষে ডানাওয়ালা কোনো রূপকথার চরিত্র নয়, বাস্তব জীবনের রক্তমাংসের মানুষই পারে অন্য কারও জীবনে সত্যিকারের দেবদূত বা অ্যাঞ্জেল হয়ে উঠতে। আর তাই আজ ২২ আগস্ট বিশ্বে পালিত হচ্ছে ‘অ্যাঞ্জেল হওয়ার দিন Be an Angel Day’

বিজ্ঞাপন

এক অদ্ভূত ভাবনার সূচনা

একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে খুব বড় কোনো বিপ্লবের প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন কেবল এক চিলতে সদিচ্ছার। এই অসাধারণ চিন্তাটি প্রথম যার মাথায় এসেছিল, তিনি ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেভিনিউ ইনসাইট নামক একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জেন হাওয়ার্ড। ১৯৯৩ সালে তিনি প্রথম এই ব্যতিক্রমী ধারণার সূচনা করেন। তার স্পষ্ট বিশ্বাস ছিল, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের ভেতরেই একজন করে ভালো মানুষ বা অ্যাঞ্জেল সুপ্ত অবস্থায় বাস করে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা আর ইঁদুর দৌড়ের চাপে সেই শুভ মানসিকতা ঢাকা পড়ে যায়। জেন হাওয়ার্ড চেয়েছিলেন এমন একটি দিন তৈরি করতে, যেদিন পৃথিবীর মানুষ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে স্রেফ অপরের উপকারে হাত বাড়িয়ে দেবে। সেই সুদূর ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতি বছর অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়ে আসছে এই দিনটি। আজ ২২ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বি অ্যান অ্যাঞ্জেল ডে বা দেবদূত হওয়ার বিশেষ দিন। কোনো স্বর্গীয় বার্তা নয়, বরং মানুষের ভেতরের পরম সহমর্মিতাকে জাগিয়ে তুলতেই তিন দশক ধরে পালিত হয়ে আসছে এই অনবদ্য দিনটি।

ক্ষুদ্র ছোঁয়াতেই স্বর্গসুখ

অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন, এই দিনে দেবদূত হওয়া মানে বুঝি পাহাড়প্রমাণ কোনো দানধ্যান করা বা ইতিহাস বদলে দেওয়ার মতো কিছু করে ফেলা। কিন্তু বিষয়টি একেবারেই তা নয়। এখানে দেবদূত হওয়ার মূল দর্শনই লুকিয়ে রয়েছে খুব ছোট ছোট নিঃস্বার্থ কাজের ভেতরে। রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কোনো প্রবীণ মানুষকে নিরাপদে সড়ক পার করে দেওয়া, দীর্ঘ দিন যোগাযোগ না থাকা কোনো পুরোনো বন্ধুকে ফোন করে তার খোঁজ নেওয়া, কিংবা ক্ষুধার্ত কোনো প্রাণীকে একমুঠো খাবার দেওয়া—এসবের মাধ্যমেই যে কেউ হয়ে উঠতে পারেন একজন অ্যাঞ্জেল। এই দিনটির মূল সুর হলো, বিনিময়ে কোনো কিছুর আশা না করে কেবল অপরকে আনন্দ দেওয়া। বর্তমানের এই চরম মানসিক চাপ আর বিষণ্ণতায় ভরা সমাজে কোনো অপরিচিত মানুষের দিকে তাকিয়ে একটুখানি আন্তরিক হাসি দেওয়াও একজন হতাশ মানুষের জীবনে অলৌকিক জাদু ছড়াতে পারে। আপনি যখন অন্য কারও মুখের হাসির কারণ হবেন, তখন সেই স্বর্গীয় অনুভূতি আপনার নিজের ভেতরেও এক অদ্ভুত আত্মিক শান্তি এনে দেবে।

ভালোবাসার জয়গান

হিংসা, বিদ্বেষ আর জটিলতায় ভরা এই পৃথিবীতে ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো শক্তি সত্যিই হতে পারে না। এই দিনটি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, ভালো মানুষ হতে গেলে কোনো অলৌকিক ক্ষমতার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু একটুখানি খোলা হৃদয় আর সহমর্মী দৃষ্টির। প্রতিটি ছোট মানবিক কাজ একটা বিশাল তরঙ্গের মতো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত মানুষকে ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করে। অশুভের ছায়া যতই ঘনীভূত হোক না কেন, মানুষের ভেতরের এই সহজাত স্নেহ আর করুণার আলোকচ্ছটাই পারে অন্ধকারকে দূর করে এক সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে। আজ ২২ আগস্টের এই দিনে অন্তত একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তার কষ্ট ভাগ করে নেওয়া যাক, বাড়িয়ে দেওয়া যাক ভরসার হাত। কারণ ভালোবাসা দিলে তা বহুগুণ হয়ে নিজের কাছেই ফিরে আসে। আসুন, আজ আমরা সবাই একে অপরের জীবনে সত্যিকারের ডানা ছাড়া অ্যাঞ্জেল হয়ে উঠি।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর