ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী অধ্যায়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদ। পর্দায় যার উপস্থিতি মানেই ছিল দর্শকদের মুখে হাসির ফোয়ারা। তবে বাবার সেই চেনা অভিনয়ের পথে হাঁটেননি তার সুযোগ্য পুত্র দিগন্ত সামাদ। অভিনয়ের চকমক দুনিয়া ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছেন সুর ও তালের জগৎ। ব্যান্ড সংগীতের পরিচিত মুখ দিগন্ত এবার বড় পর্দায় নাম লিখিয়েছেন প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে। আর প্রথম আঙ্গিকেই চলতি ঈদে বাজিমাত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া বহুল আলোচিত ‘মালিক’ সিনেমার টাইটেল ট্র্যাকে কণ্ঠ দিয়েছেন দিগন্ত সামাদ। গানটির শক্তিশালী কথা লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল ও দেশের জনপ্রিয় র্যাপার তৌফিক আহমেদ। সময়ের অন্যতম শীর্ষ সুরকার ও সংগীত পরিচালক অদিত রহমানের ম্যাজিক্যাল কম্পোজিশনে গানটিতে দিগন্তের সঙ্গে সহ-শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ মিলিয়েছেন তৌফিক আহমেদ নিজেই।
চলচ্চিত্রে নিজের এই রাজকীয় অভিষেক নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত দিগন্ত সামাদ। বাবার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তার বাবা টেলি সামাদ কেবল একজন কিংবদন্তি অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি একাধারে চমৎকার কণ্ঠশিল্পী ও চিত্রশিল্পীও ছিলেন। বাবার রক্তে থাকা সেই সংগীতের প্রতি ভালোবাসাটাই হয়তো নিজের অজান্তে পেয়ে গেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেওয়ার স্বপ্ন বুনে আসছিলেন মনে। অবশেষে ‘মালিক’ সিনেমার মাধ্যমে তার সেই স্বপ্নের প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হলো। এই বিশেষ সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য সংগীত পরিচালক অদিত রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
টেলি-পুত্রের সুরের জাদু কেবল একটি সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই ঈদে মুক্তি পাওয়া মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ‘রকস্টার’ সিনেমাতেও যুক্ত ছিলেন দিগন্ত। ছবিটির ‘আমাকে উড়িয়ে দাও’ শিরোনামের একটি গানে ব্যাক ভোকাল হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। পরপর দুটি বড় প্রজেক্টে যুক্ত হওয়া তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দিগন্ত সামাদ মনে করেন, একজন পেশাদার কণ্ঠশিল্পীর জন্য চলচ্চিত্রের গানে (Playback Singing) যুক্ত হওয়া একটি বিশেষ মাইলফলক এবং বড় অর্জন। তাই আগামী দিনে রুপালি পর্দার গানে নিয়মিত কণ্ঠ দেওয়ার তীব্র ইচ্ছা রয়েছে তার। চলচ্চিত্রের এই ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজের ব্যান্ড দল নিয়েও পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে চলছে তার প্রথম একক অ্যালবামের প্রস্তুতি। অভিনয় দিয়ে বাবা যেভাবে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন, দিগন্ত সামাদও তার কণ্ঠ আর সুরের মূর্ছনায় বাংলা সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকতে চান।