অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একাই লড়াই করে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন টেস্ট সিরিজে এই ইনিংস তাঁকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।
ডারউইনের মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশ যখন ১০৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন ক্রিজে নামেন মিরাজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলেও ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ে তোলেন ডানহাতি ক্রিকেটার। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ১০৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে ২৬৩ রানের সংগ্রহ এনে দেন।
দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় মিরাজ বলেন, ‘প্রথম দিকে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি শুধু চেষ্টা করেছি মেরিট অনুযায়ী খেলার। ওদের বোলাররা খুব ভালো জায়গায় বোলিং করেছে।’
এই অলরাউন্ডার ৭৫ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। এরপর আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে পরের ৫০ রান করেন মাত্র ৫৩ বলে। ১৪১ বলের ইনিংসে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১০৯ রান করেন তিনি।
মিরাজ বলেন, ‘আমার জন্য একটু কঠিন ছিল, যেহেতু এই প্রথম এ কন্ডিশনে খেলছি। আমি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। জুটি গড়ার চেষ্টা করেছি। প্রথম দিকে রানের জন্য খেলিনি। চেষ্টা করেছি কীভাবে উইকেটে মানিয়ে নেওয়ায় যায়। পরে যখন সুযোগ পেয়েছি, রান করা সহজ হয়েছে।’
বাংলাদেশের ইনিংস একসময় ১৯৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বড় সংকটে পড়ে। সেখান থেকে শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদের সঙ্গে ৬৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ আড়াইশ পার করেন মিরাজ।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ম্যাচ। তাই ইনিংসটির গুরুত্বও আলাদা বলে মনে করছেন তিনি। মিরাজের মতে, নতুন পরিবেশে সফল হওয়া তাঁকে টেস্ট সিরিজের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের সামনে টেস্ট ম্যাচ আছে, এটা (সেঞ্চুরি) আমাকে আত্মবিশ্বাস দেবে। আমি যে মাইন্ড সেটআপে ছিলাম, এটা যদি অব্যাহত রাখতে পারি, আমার জন্য ভালো হবে। দলের জন্যও ভালো হবে।’
বাংলাদেশ আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা।