সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় জয় ছিল বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়। কিন্তু শেষ ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে হঠাৎই জমে ওঠে রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত তানজিদ হাসান তামিমের দায়িত্বশীল অপরাজিত অর্ধশতকে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
শুরুর ধাক্কা সামলে ইনিংসের হাল ধরেন তানজিদ হাসান তামিম। পাওয়ার প্লেতে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের পর পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে পাল্টা আক্রমণে যান এই বাঁহাতি ওপেনার। দুজনের ৫৫ রানের জুটি বাংলাদেশের রান তাড়ার ভিত গড়ে দেয়।
ইমন ২৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। এই জুটিতে আসে ৬৩ রান। হৃদয়ও ২৪ রান করে ফিরলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে।
শেষদিকে ইয়াসির আলি ১০ রান করে আউট হন। এরপর শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। কিন্তু ব্র্যাড ইভান্স প্রথম দুই বলেই ফিরিয়ে দেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। মুহূর্তেই ম্যাচে ফিরে আসে জিম্বাবুয়ে।
হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি হয়েছিল ইভান্সের সামনে। শেখ মেহেদী হাসানকে এলবিডব্লিউর আবেদন করলেও আম্পায়ার বলকে ডেড ঘোষণা করেন। পরের বলেই চাপ সামলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন শেখ মেহেদী।
তানজিদ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন, যা বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। শেখ মেহেদী ৪ রানে অপরাজিত থেকে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। শুরুতেই শেখ মেহেদী হাসানের আঘাতে ৬ রানেই প্রথম উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন ব্রায়ান বেনেট ও ডিয়ন মায়ার্স।
বেনেট ৩৮ বলে ৪৭ রান করে ফিরলেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন মায়ার্স। ৫২ বলে ৭২ রানের ইনিংসে সাতটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে এই দুই ব্যাটারের পর আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।
বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষদিকে দ্রুত উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ৩, রায়ান বার্ল ৭, ব্র্যাড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদান্দে শূন্য রানে আউট হন। মিল্টন শুম্বা ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট। এছাড়া শেখ মেহেদী হাসানসহ আরও তিন বোলার একটি করে উইকেট শিকার করেন।
প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিম্বাবুয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।