প্রথমার্ধে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত সেভে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস। তার পরও ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণ। সেই আক্রমণ প্রতিহত করেই প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স-মরক্কো। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই এমবাপ্পের জাদু। সেই জাদুতে আরেকটি পালক যোগ করেন উসমান দেম্বেলে। আর এর মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠল ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচের প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে শট নেন দেজিরে দুয়ে। কিন্তু তার সেই শট প্রথম চেষ্টায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দ্রুত বলটি দখলে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
তবে ম্যাচের ৬০ মিনিটে এমবাপ্পের গোলে ভাঙে ডেডলক। বাঁ প্রান্তে লড়াইয়ের পর বলটি চলে আসে দেজিরে দুয়ের কাছে। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বক্সের প্রান্তে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে। সেখান থেকে অসাধারণ দক্ষতায় বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন ফরাসি অধিনায়ক। তবে আক্রমণের শুরুতে হ্যান্ডবলের দাবি জানায় মরক্কো। শেষ পর্যন্ত ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন রেফারি। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
এর ৬ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। আক্রমণের সময় এমবাপ্পের দৌড়ে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগান দেম্বেলে। সেই জায়গা দিয়ে দ্রুত ঢুকে পড়ে নিচের কোণ লক্ষ্য করে নিখুঁত শট নেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু বলের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করলেও দেম্বেলের শট থামাতে পারেননি। তাতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠে বসে পড়েন ফ্রান্স অধিনায়ক। এর আগেও কয়েকবার অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা গিয়েছিল তাকে। এরপর কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি কিক থেকে দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল মরক্কো। আশরাফ হাকিমি শট না নিলে বল বাড়িয়ে দেন আজ্জেদিন উনাহিকে। বল পেয়ে উনাহি শক্তিশালী শট নেন, যা ফ্রান্সের দেয়াল পেরিয়ে চলে যায় গোলমুখে। তবে সতর্ক থাকায় বলটি পাঞ্চ করে দূরে সরিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। এটিই ছিল মরক্কোর গোলপোস্টে রাখা প্রথম শট।
শেষ দিকে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভাঙার একাধিক চেষ্টা চালায় মরক্কো। কিন্তু গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। তবে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। ইনজুরি সময়ে (৯০+৪ মিনিট) জিন-ফিলিপ মাতেতা মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিয়োপকে ওয়ান-অন-ওয়ান অবস্থায় পেছনে ফেলে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর মুখোমুখি হন। কিন্তু আবারও সাহসী ভূমিকায় তা ঠেকিয়ে দেন বুনু।
ম্যাচের শেষ দিকে আর কোনো গোল না হওয়ায় প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স। আর ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা