Thursday 16 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদ: হাতিয়ে নিল ২৫ লাখ টাকা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৯ মে ২০২৪ ২১:৫৪ | আপডেট: ২০ মে ২০২৪ ১০:৪৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে বেসরকারি একটি সংস্থার দুই কর্মকর্তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। পুলিশ জানিয়েছে, কথিত এ ঋণদান সংস্থা শতাধিক নিম্ন আয়ের মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

শনিবার (১৮ মে) বিকেলে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে সংস্থার কার্যালয় থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রোববার (১৯ মে) বিকেল পর্যন্ত শত, শত গ্রাহক পাওনা টাকার জন্য থানার সামনে ভিড় করেন। এক ভুক্তভোগী মামলা দায়েরের পর বিকেলে তাদের পুলিশ আদালতে হাজির করে এবং এরপর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতার দু’জন হলেন- মেহেদী হাসান সবুজ (৩৫) ও জাফরুল হাসান খান (২৮)। তাদের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন কাঁচাবাজারের ভেতরে একটি ভবনে আস্থা মাল্টিপারপাস সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি কথিত সঞ্চয় ও ঋণদান সংস্থা খুলে দুজন নিম্ন আয়ের লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এদের মধ্যে সবুজ নিজেকে ওই সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাফরুল ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা সারাবাংলাকে জানান, শনিবার বিকেলে কয়েকজন ভুক্তভোগী মিলে সংস্থার কার্যালয় থেকে দুজনকে ধরে থানায় নিয়ে যান। ভুক্তভোগীরা এ সময় ওই সংস্থার কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন। এর পর থানায় অভিযোগ করেন যে, ওই দুজন ঋণ দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। শনিবার রাতে সংস্থার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ১২৭টি সঞ্চয় ও ঋণ পাসবই এবং ৫৭৬টি সদস্য আবেদন ফরম উদ্ধার করা হয়। রোববার সকালে ঋণপ্রত্যাশী কয়েকজন কার্যালয়ে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ দেখেন এবং জানতে পারেন তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে। তখন থেকে শত, শত ভুক্তভোগী থানার সামনে ভিড় জমাতে থাকেন।

ওসি সঞ্জয় বলেন, ‘তদন্তে আমরা তথ্য পেয়েছি, কমপক্ষে ৩০০ জনের কাছ থেকে তারা ঋণ দেওয়ার নামে জামানত আদায় করে অন্তত ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু কাউকে ঋণ দেওয়া হয়নি। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিম্ন আয়ের লোকজনকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। ১০ হাজার টাকা সঞ্চয়ের বিপরীতে সাতদিনের মধ্যে এক লাখ টাকা ও ২০ হাজার টাকার বিপরীতে দুই লাখ টাকা ঋণ এবং পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার লোভ দেখাতেন তারা। এভাবে তারা সঞ্চয় কিংবা জামানতের নামে লাখ, লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।’

একমাস আগে স্থানীয় এক গৃহিণীর কাছ থেকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো