Thursday 16 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গণঅভ্যুত্থানের বৈধতার চূড়ান্ত বিচারক জনগণ: শিশির মনির

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:১১ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:২৮

– ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা বা অবৈধতা নির্ধারণ আদালতের বিষয় নয় এ বিষয়ে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক। তার মতে, জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের আইনগত প্রতিফলন হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের শহীদ শাফিউর রহমান অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল’ আয়োজিত ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি, গণভোট, জুলাই সনদ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়: বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা এককেন্দ্রিক করা হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে বিচারব্যবস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং গুম, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান বাতিল করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রসংস্কার, বিচার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে। নির্বাচন সম্পন্ন হলেও রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিশির মনির জানান, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ জারি করেন। ওই আদেশ অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রতিষ্ঠার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। তিনি বলেন, আদেশ অনুযায়ী গণভোটে ইতিবাচক ফল এলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও সরকারদলীয় প্রতিনিধিদের একটি অংশ শপথ না নিয়ে আদেশের বিধান লঙ্ঘন করেছেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের যে রায় দিয়েছিলেন, আপিল বিভাগ তা বহাল রেখেছে। এর ফলে সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়েছে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর অন্যান্য বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আইন এখনো কার্যকর এবং বাংলাদেশের কোনো আদালত সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেননি। তাই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করাই হবে আইনসম্মত পদক্ষেপ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার এ. এস. এম. শাহরিয়ারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর