ঢাকা: মাগুরা মেডিকেল কলেজ স্থাপনে শেষ সময়ে এসে জমি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কেননা মাগুরা-নড়াইল হাইওয়ের পাশে নির্ধারিত জমি দোফসলি ও নিচু হওয়ায় এ বিষয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এর আগে একনেক বৈঠকে কৃষি জমি উন্নয়ন কাজে ব্যবহার না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে ‘মাগুরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নাসিং কলেজ স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি নিয়ে আপত্তি উঠে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায়। পরে জমি পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৭০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রক্রিয়াকরণ শেষে অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। প্রস্তাবিত প্রকল্পের ওপর গত ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পিইসি সভা। সেখানে জমির বিষয়টি উঠে আসে।
মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. কামরুল হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এখন পতিত জমি পাওয়া কঠিন। সব জমিই কৃষি জমি। এছাড়া গত দুই বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পর প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। পিইসি সভায় এই নিয়ে কথা হওয়ার পর একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কমিটি গঠন সংক্রান্ত চিঠিটি হাতে পেলাম। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তবে কমিটি কবে পরিদর্শনে আসবে সেটি এখনো জানানো হয়নি।
পিইসি সভায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, খুলনা বিভাগের মাগুরা একটি জনবহুল জেলা। সেখানকার জনগণ স্বাস্থ্যসেবার জন্য খুলনা ও যশোর জেলার টারশিয়ারি লেভেলের হাসপাতালের উপর অধিকাংশ নির্ভরশীল। এ কারণে মাগুরা জেলা ও এর আশপাশের এলাকার জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং এসডিজির অভিষ্ট-৩ অর্জনের ক্ষেত্রে এ প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, মাগুরা সদর হাসপাতালে ২০১৮-১৯ সেশন হতে মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ২২৫ এর অধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এ বছরে ৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হবে।
অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় মাগুরা কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রস্তাবিত জমি মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে মাগুরা-নড়াইল হাইওয়ের পাশে অবস্থিত। দোফসলি ও নিচু এই জমির ৪ থেকে ৫ ফুট ভূমি উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। দোফসলি জমির বিষয়ে একনেক অনুশাসন অনুযায়ী এই প্রকল্পটি অনুমোদনে বিধিনিষেধ আছে। এক্ষেত্রে অন্য কোথাও জমি পাওয়া যায় কি না তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, মাগুরা শহরের অন্যান্য জমির প্রকৃতি প্রায় একই ধরনের।
এ প্রসঙ্গে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) আব্দুল বাকী বলেন, প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে প্রকল্পটির অনুমোদনের সুপারিশ করা যৌক্তিক হবে। এরপর তিনি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের স্বাস্থ্য উইংয়ের যুগ্ম প্রধানকে আহ্বায়ক করে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), উদ্যোগী বিভাগ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি পরিদর্শন টিম গঠনের প্রস্তাব করা হলে সভায় একমত প্রকাশ করা হয়।
সভায় আইএমইডির প্রতিনিধি বলেন, প্রকল্পের লগফ্রেমের ইনপুটের সঙ্গে আউটপুটের মিল নেই। ওভিআই (অবজেক্টলি ভেরিফাইএ্যাবল ইন্ডিকেটর) অনুযায়ী হয়নি। ক্রয় পরিকল্পনায় অনেক ত্রুটি রয়েছে এবং মেয়াদকালও হালনাগাদ করা দরকার।
সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্মপ্রধান বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবিত ২৫টি অবকাঠামোর মধ্যে ১৫টি আবাসিক ভবন এবং ১০টি অনাবাসিক ভবন রয়েছে এবং এ ভবনগুলোর বিপরীতে ৩৮টি লিফট রয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণের অত্যাধিক প্রস্তাব করা হয়েছে।
মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ইমারজেন্সি স্টাফ ডরমিটরি ভবনের প্রয়োজন নেই। তবে কর্মচারীদের জন্য ৮০০ বর্গফুট কোয়ার্টার রাখার ব্যাপারে তিনি সভায় বলেন। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ছয় তলা ইমারজেন্সি স্টাফ ডরমিটরি ভবনের একই ভিতে একই তলা বিশিষ্ট এক হাজার ও এক হাজার ২৫০ বর্গফুটের কোয়াটার এবং ১ হাজার ৫০০ ও ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের কোয়াটার বাদ দেওয়াসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লিফট এবং বৈদ্যুতিক চাহিদা এবং সাব-স্টেশন যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করা হয়।