ঢাকা: রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের সরকারি কোয়ার্টারের বাসার ভেতর থেকে মাজহারুল ইসলাম (২৬) নামে এক পুলিশ সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বেলা ২টার দিকে নিউমার্কেট থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
মাজহারুলের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দিঘলদী গ্রামে। তার বাবা শফিউল্লাহ ভূঁইয়া কৃষক এবং মা রেনু বেগম গৃহিণী। বর্তমানে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের ডিসিপ্লিন শাখায় কর্মরত ছিলেন মাজহারুল। ২০১৬ সালে পুলিশ সদস্য হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন তিনি।
নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাকছুদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি স্টাফ কোয়াটারের ৩ নম্বর ভবনের নিচ তলার একটি রুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার মৃতদেহ। এ সময় রুমের দরজাটি খোলা ছিল এবং দরজার পাশেই ফ্লোরে পড়া ছিলেন তিনি। তবে রুমের ভেতর ফ্যানের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো ছিল। মাজহারুলের গলাতেও অর্ধচন্দ্রাকৃতির কালো দাগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহটি মর্গে পাঠানো হয়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে মৃত মাজহারুলের ভগ্নিপতি আবুল বাশার জানান, এক ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন মাজহারুল। অবিবাহিত ছিলেন তিনি। এলিফ্যান্ট রোডের স্টাফ কোয়ার্টারে একটি বাসায় গত ৬-৭ মাস ধরে একাই থাকতেন। সপ্তাহে দু একদিন সেখানে থাকতেন। এছাড়া নিয়মিত বাড়ি যাওয়া আসা করতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে এলিফ্যান্ট রোডের ওই বাসার সামনে গিয়ে পুলিশের গাড়িতে তার মৃতদেহ দেখতে পান।
তিনি জানান, গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে সবশেষ মায়ের সাথে কথা বলেন মাজহারুল। এরপর পরিবারের আর কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানেন না তারা। তবে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন না বলে দাবি করেন তারা।