ঢাকা: আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয় রাজধানীতে। এরপরও কাঁদা-পানি মাড়িয়েও হাজারীবাগ বাজার সংলগ্ন কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। বৃষ্টির পর ক্রেতাদের উপস্থিতিতে হাট এখন জমজমাট। ছোট, মাঝারি ও বড় গরুতে হাটের কানায় কানায় পূর্ণ। ক্রেতাদের চাহিদা বেশি মাঝারি সাইজের গরু ও ছাগলের। গত কয়েক দিনে পশু বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) দুপুরে হাটে পশু বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ঈদুল আজহায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার মোট ১৯টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯টি স্থানে পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে হাজারীবাগ একটি। হাজারীবাগ ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গায় বসেছে পশুর হাট। মূলত কলেজের হাট বসছে সড়ক আর ফুটপাতে ঘিরে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজের দেয়ালের পাশে দিয়ে হাট বসেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশ গেটের অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে ছাগল-ভেড়ার জন্য। অন্যপাশ থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত অংশ গরুর জন্য। এছাড়া আশপাশের অন্য সড়কগুলোতেও গরু রাখা হয়েছে। হাজারীবাগের শফিক ট্যানারির মোড় থেকে বাঁ দিকের খলিল সরদার মসজিদসহ ডানদিকের বাজার হয়ে আশপাশের ছোট-বড় রাস্তা এবং থানা রোডের পুরোটাতেই হাট বসছে। মূল সড়ক ছাড়িয়ে অলিগলিতেও প্রস্তুত হচ্ছে নতুন নতুন অস্থায়ী শেড। বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল ছাউনি। এছাড়া একাধিক হাসিল ঘর তৈরি করা হয়েছে। এই হাটের ইজারা পেয়েছেন অহিদুর রহমান ওয়াকিব। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। গত বছরও তিনিই ইজারাদার ছিলেন।
হাজারীবাগ পশুর হাটে আসা ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটের অধিকাংশ ব্যাপারী এসেছেন ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, রংপুর, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইল থেকে। হাটে ছোট আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা, আর ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মাঝারি গরু। বিশেষ করে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০/৫০ হাজার টাকা মূল্যের গরু বেশি কিনছেন ক্রেতারা। তবে বড় গরুর দাম আড়াই থেকে ৪ লাখ টাকার উপরে। তবে বড় গরুর ক্রেতা কম।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে হাটে ৮টি গরু নিয়ে এসেছেন জাহাঙ্গীর আলম (৫২)। গরুর দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা ভাল যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪টি গরু বিক্রি করেছি। এর মধ্যে একটি ২ লাখ ২০ হাজার, একটি ১ লাখ ৩ হাজার, একটি ১ লাখ ১৮ হাজার এবং আরেকটি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।’

ছবি: সারাবাংলা
৪টি গরুর দাম নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও আক্ষেপ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঢাকার তুলনায় জেলার বড় বড় হাটগুলোতে গরুর দাম বেশি যাচ্ছে। ঢাকায় বেশি দামে গরু বিক্রির আশায় এসে এবার মনে হয় একটু লসই হয়েছে। এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে তা জানতে পারছি।’ এমনটা হওয়ার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘যে গরুটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি, তার মাংস কম করে হলেও ১৩ থেকে ১৪ মণ হবে। কিন্তু এমন গরু জেলার বড় বড় বাজারগুলাতে কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
বাড়িতে বড় করে তোলা গরুর ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘গরুর সব খাবারের দাম বেড়েছে। ভুসি, খৈল, গম, ভুট্টা ও খুদের দাম বেড়েছে। তাই গরুর দামও বেশি হওয়ার কথা, সে তুলনায় দাম কম। লাভ একটাই গরুগুলো বিক্রি করে একসঙ্গে মোটা অংকের টাকা হাতে পেয়েছি।’
মেহেরপুর থেকে গাংনী উপজেলা থেকে চারটি বড় গরু বিক্রির জন্য এনেছেন অপর এক খামারি। এরমধ্যে একটি গরু ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বাকিগুলো গরু ক্রেতারা শুধু দরদাম করে চলে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
হাজারীবাগ পশুর হাট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, হাটে এখন পর্যন্ত পশুর আমদানি পর্যাপ্ত। সকালে বৃষ্টির কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। যদি আর বৃষ্টির উপদ্রব না হয় তাহলে আজ রাতে উল্লেখযোগ্য হারে পশু বিক্রি বাড়তে পারে।