Saturday 11 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধীদের জন্য অনন্য সেবা

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:০৩ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৩১

ঢাকা: বাংলাদেশের গণপরিবহনে আমাদের নানা রকমের প্রতিবন্ধকতার মাঝে পড়তে হয়। অন্য কারো সাহায্য ছাড়া আসলে গণপরিবহন ব্যবহার করাটা প্রায় স্বপ্ন দেখার মতো একটা বিষয়। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো দেশে একটা গণপরিবহন চালু হলো মেট্রোরেলের মতো যেখানে অন্য কারো সাহায্য নেওয়া ছাড়াই আমি নিজের হুইল চেয়ারে করে উত্তরা থেকে গেছি আগারগাঁও।

আবার সেখান থেকে কাজ শেষ করে ফিরে এসেছি উত্তরায়। আগে পেশাগত কাজে নানা সময়ে দেশের বাইরে গিয়ে প্রতিবন্ধীবান্ধব সুযোগ সুবিধা দেখে ভাবতাম, আমাদের দেশে আমরা কবে পাবো এমন ব্যবস্থা? কিন্তু আজ মেট্রোরেলে চড়ে বলতে পারি, হ্যাঁ আমাদের দেশের প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। যার কারণে কারো সাহায্য না নিয়েও আমি গণপরিবহনে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে পারি। এমন স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ায় ধন্যবাদ বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলার সঙ্গে আলাপকালে এভাবেই নিজের মেট্রোরেলে চড়ার অভিব্যক্তি জানান বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ মহসিন।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার কিছু সময় পর তিনি আসেন উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশনে। এরপর থেকে আগাঁরগাও পর্যন্ত মেট্রোরেলে চড়ে যাওয়া ও সেখান থেকে কাজ শেষ করে আবার উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশনে আসার পরে অভিজ্ঞতা জানানোর সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

কেমন ছিল মেট্রোরেলের স্টেশনে প্রবেশের অভিজ্ঞতা?- এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ মহসিন সারাবাংলাকে বলেন, সকালে অটো থেকে নেমে মেট্রো রেলস্টেশনে যখন প্রবেশ করছিলাম তখনো বুঝে উঠতে পারি নি এতো সহজ উপায়ে আমরা যাতায়াত করতে পারবো।

অটো থেকে নেমে নির্ধারিত স্থানে থাকা লিফটে উঠে চলে যাই টিকেট কাটার জন্য। সেখানে মানুষের লাইন থাকলেও আমাদের জন্য ছিল আলাদা ব্যবস্থাপনা। শুধুমাত্র আমরা যারা হুইলচেয়ার ব্যবহার করি তাদের জন্যেই না বরং একইভাবে যারা দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী তাদের জন্যেও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, টিকেট কাটার পরে আবার লিফটে উঠে আমি চলে যাই তৃতীয় তলায় যেখান থেকে মেট্রোরেলে উঠে আমাকে যাত্রা শুরু করতে হবে। সেখানে গিয়েও দেখতে পাই আমাদের জন্য রয়েছে আলাদা চিহ্নযুক্ত ব্যবস্থা যার ফলে সহজেই মেট্রোরেলের প্রবেশ করতে পারি। অন্যান্য গণপরিবহনে আমাদের হুইল চেয়ার রাখার ব্যবস্থা না থাকলেও মেট্রো রেলে তেমন কোনো কষ্ট আমাদের করতে হয় নি। সেখানে উঠে নির্ধারিত স্থানে আমাদের জন্য বরাদ্দ রাখা আসনে চলে যাই। আর এরপরে পৌঁছে যাই আগারগাঁও।

তিনি আরও বলেন, দেশের অন্য কোনো গণপরিবহনে আগে এমন কোনো সুবিধা আমরা দেখিনি। আর তাই আমাদের মতো যারা আছে তাদের সবাইকে আমি মেট্রোরেল ব্যবহারের অনুরোধ জানাবো। কারণ অন্যান্য গণপরিবহন বা সিএনজি অটোরিকশা করে গেলে অনেক টাকা ও সময় লাগে। কিন্তু মেট্রোরেলে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচিয়েছে। সব চাইতে বড় কথা কারো সাহায্য নেওয়া ছাড়াই আমি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছাতে পারছি।

মেট্রোরেলে চড়ে নিজেই আগারগাঁও থেকে আবার উত্তরা ফিরে আসেন মোহাম্মদ মহসিন। আর এই যাওয়ার আসার পুরো সময়টায় মেট্রোরেল চড়ার অভিজ্ঞতা অসাধারণ বলে উচ্ছাস প্রকাশ করেন মোহাম্মদ মহসিন।

তিনি বলেন, গণপরিবহনকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করে গড়ে তোলার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। কারো সাহায্য ছাড়াই যেনো গণপরিবহনে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে পারি সেটা দীর্ঘদিনের চাওয়াও ছিল। সেই চাওয়া এখন আর স্বপ্ন নয়। মেট্রোরেল এখন আর আমাদের জন্য কোনো স্বপ্ন নয় বরং বাস্তবতা। আর প্রতিবন্ধীবান্ধব মেট্রোরেল গড়ে আমাদের এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

এর আগে, বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪ মিনিটে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের সি-১ ব্লকের খেলার মাঠে নামফলক উন্মোচন করে মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় সাধারণ যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় মেট্রোরেল। যাত্রীদের নিয়ে মেট্রোরেল প্রথমবারের মতো সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে উত্তর উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও স্টেশনে উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল নির্মাণকাজ চলছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার সহযোগিতায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে সীমিত পরিসরে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ মেট্রোরেলে চড়ে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে।

সারাবাংলা/এসবি/এনইউ