ঢাকা: ‘জুলাই বিপ্লবোত্তর শিক্ষা সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার করে নৈতিকতা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সেমিনারে দলীয়করণ ও বৈষম্য দূর করে যুগোপযোগী শিক্ষা নীতি প্রণয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
প্রধান অতিথি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হাসান বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশের আত্মপরিচয় ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।’ তিনি ধর্মীয়, নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষাকে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষাখাতে মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানান।
প্রধান বক্তা দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ব্যর্থ।’ বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর, পাঠ্যপুস্তকের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ইলিয়াস মোল্লা এমপি বলেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক শিক্ষা নীতি প্রণয়ন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।’
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত এবং দলীয়করণ বন্ধের আহ্বান জানান।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার সমালোচনা করে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানান।
লেখক ও ইসলামিক চিন্তাবিদ মুফতি আলী হাসান উসামা বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক স্তর থেকে কুরআন-হাদিস শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক।
আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম, অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠনের নেতারা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থাকে নৈতিক মূল্যবোধ ও কোরআনের শিক্ষাভিত্তিক করতে হবে।’ তিনি শিক্ষার প্রতিটি স্তরে কুরআন শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ এবং ইসলামিক স্টাডিজকে আবশ্যিক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।