Friday 10 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সংস্কারের অভাবে বেহাল রামু’র ‘ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাকিম সড়ক’

মো. নেজাম উদ্দিন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪৩

ভেঙে যাওয়া ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাকিম সড়ক। ছবি: সারাবাংলা

কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচ্যাচর গ্রামের প্রধান ও হাজারো মানুষের যোগাযোগ মাধ্যম ‘ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাকিম সড়ক’টি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলিত ও বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের পর বছর কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটি এখন সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক ধসে ও ভেঙে গিয়ে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এবং স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের।

বিজ্ঞাপন

​সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে বিশাল বিশাল খানাখন্দ এবং কাদামাটির সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বই বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী নজরুল নিলয় অভিযোগ করে বলেন, ‘রাস্তাটির এই কঙ্কালসারের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে থাকা রোগীরা। খানাখন্দে ভরা এই সড়ক দিয়ে বর্তমানে যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কোনো রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও এখন আর নেই।’

ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাকিম সড়ক। ছবি: সারাবাংলা

আমিন জানান, স্থানীয় সাংবাদিক নেজাম উদ্দিনের কারণে এই সড়কটি আমরা পেয়েছিলাম। তিনি তার মূল্যবান জমি সড়কে দান করে এই সড়ক করার ব্যবস্থা করেছিলেন। শুরুতে সুন্দর ইটের সড়ক থাকলেও এখন বৃষ্টির কারণে ভেঙ্গে যাওয়াতে আমাদের চলাচলের বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গ্রামের হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কোন অসুস্থ রোগি নিতে হলে এখন কাঁধে করে নিতে হবে। কোনভাবেই গাড়ি আসার সুযোগ নেই এমন হয়ে গেছে সড়কটি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কের ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নিবে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, গর্জনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সুনজর থেকে বঞ্চিত। বর্ষা মৌসুম এলেই সড়কটি যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

​এলাকার সচেতন মহলের দাবি, জোড়াতালির মেরামত নয়, বরং এই সড়কটিকে দ্রুত সরকারি বরাদ্দের আওতায় এনে পাকা সড়ক বা টেকসই ব্লক-কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সংস্কার করা জরুরি। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রশাসন অতি দ্রুত এই সড়কটি পরিদর্শনের মাধ্যমে মেরামতের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন পশ্চিম জুমছড়ি মরিচ্যাচর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। জনগণের এই দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট লাঘব করতে এবং জনস্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

​ভুক্তভোগী জনগণের পক্ষে গ্রাম সর্দার মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে এই রাস্তার কারণে চরম অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। এলাকার সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আমরা স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে দয়া করে দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

এ বিষয়ে জানতে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কাসেমকে বেশ কয়েকবার কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গর্জনিয়া অনেক বড় ইউনিয়ন। টানা বৃষ্টির কারণে অনেক সড়কের ক্ষয়ক্ষতি আমাদের নজরে এসেছে। আশা করছি ক্রমান্নয়ে গ্রামের সকল সড়কের কাজ করা হবে।’

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর