Saturday 11 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব নির্বাচন: রুবেল-আনোয়ার বিপক্ষে শামসুল-রাজন

প্রান্ত রনি, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৪৯ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:১৯

রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের কার্যনিবাহী কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রুবেল-আনোয়ার বিপক্ষে শামসুল-রাজন

রাঙ্গামাটি: আগামী ২৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের কার্যনিবাহী কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। দীর্ঘ দুই দশক পর ১৫ জন নবীন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করায় এবারের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটি। এবারের ভোটযুদ্ধে টানা চারবারের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত রুবেল-আনোয়ার বিপক্ষে নবীন-প্রবীনের জোট গড়েছেন শামসুল-রাজন।

নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিলির কার্যক্রম শুরু হয় ১৩ ডিসেম্বর। ১৫ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমাদান ও বাছাইয়ের শেষদিন। ১৬ ডিসেম্বর ছিল প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ। ১৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, এবার ভোট হবে কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে। কার্যনিবাহী কমিটিতে মোট ১১টি পদ থাকলেও সভাপতি ও সম্পাদক পদ ছাড়া অন্য পদগুলোতে ‘অজ্ঞাত’ কারণে চারজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় কেবল সভাপতি পদে লড়ছেন টানা চারবারের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল ও সাবেক সভাপতি এসএম শামসুল আলম। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন টানা চারবারের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক ও নতুন সদস্য ফজলুর রহমান রাজন।

বিজ্ঞাপন

এরমধ্যে সভাপতি প্রার্থী সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক পূর্বকোণ ও এসএম শামসুল আলম নাগরিক টিভির জেলা প্রতিনিধি। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনোয়ার আল হক দৈনিক সংগ্রাম ও ফজলুর রহমান রাজন যমুনা টিভির জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, ক্রীড়া-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক পদে মো. হান্নান এবং সদস্য পদে মো. সোলায়মান ও মো. নুরুল আমিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ও সদস্য পদে ভোটযুদ্ধ হচ্ছে না। নির্বাচন উপ-কমিটি সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সহ-সভাপতি পদে অলি আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক পদে সুপ্রিয় চাকমা, কোষাধ্যক্ষ পদে পুলক চক্রবর্তী, দফতর সম্পাদকে মনসুর আহম্মেদ, ক্রীড়া-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মো. মঈন উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য পদে একেএম মকছুদ আহমেদ, সৈয়দ মাহাবুব আহামদ ও মো. আলমগীর মানিক পাটোয়ারী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে একটি নির্বাহী সদস্য পদ শূন্য রয়েছে।

দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান রাজন সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিক প্রেসক্লাব বির্নিমাণে আমি সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তির কাছে জিম্মি থাকবে না। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, থাকবে না কোনো সিন্ডিকেট। নতুন এবং যোগ্যদের প্রেসক্লাবের সদস্য করা হবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘কালো টাকার’ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে।’

আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনোয়ার আল হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভোট একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। অন্যান্য নির্বাচনের থেকে এবার আমাদের ভোটার সংখ্যাও বেড়েছে। আশা করছি, আমাদের সদস্যগণ আন্তরিক ও উৎসবমুখরভাবেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সদস্যরা যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন।’

সভাপতি প্রার্থী এসএম শামসুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনে আমি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আশা করছি, এবারের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। অনেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আবার প্রত্যাহারও করেছেন। এটা প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার, আমরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছি।’

সভাপতি প্রার্থী সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল সারাবাংলাকে বলেন, ‘টানা চারবার রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমি আশাবাদী, সদস্যরা আমাকে আবারও নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। অন্যান্য বারের নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচন আরও অনেক উৎসবমুখর হবে বলে প্রত্যাশা করছি। কারণ আগের চেয়ে আমাদের নবীন সদস্যরা মিলে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। আমি নির্বাচিত হলে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের যে অগ্রযাত্রা, সেটিকে অব্যাহত রাখব।’

নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বাক তাছাদ্দিক হোসেন কবির বলেন, ‘আমরা কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পাইনি। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। গতকাল (সোমবার) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন ছিল। অনেকেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ১১টি পদের বিপরীতে ৮টিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। একটি সদস্য সদস্য পদ শূন্য রয়েছে। কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে পদে দু’জন করে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ দুই দশকের ‘অচলায়তন’ ভেঙে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবে নতুন ৭ সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ২০ দিনের মাথায় ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করে সুশীল প্রসাদ চাকমা ও নন্দন দেবনাথের নেতৃত্বে ‘পাল্টা প্রেসক্লাব’ ঘোষণা করেছিল জেলার সাংবাদিকদের একাংশ। তখন ‘বিদ্রোহী’ প্রেসক্লাব নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করায় ‘কতিপয় ব্যক্তির প্রতিনিধিত্বকারী’ ও ‘মূলধারায় পেশাদার সাংবাদিকদের কোনো সম্পৃক্ত নেই’ বলে অভিযোগ তোলা হয় রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তোপের মুখে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও ৯ জন নবীন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয় রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবে। দুই ধাপে ১৬ জন নবীন সদস্য নেওয়া হলেও একজন পেশা বদলের কারণে নতুন সদস্য এখন দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। সে হিসাবে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবে এখন নতুন-পুরোনো মিলে মোট সদস্য সংখ্যা ২৬ জন। এরমধ্যে ১১ জনের কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হবে। অন্যদিকে, দুই দফায় সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার পর দুই প্রেসক্লাবের ‘সমঝোতায়’ পাল্টা প্রেসক্লাবও বিলুপ্ত করেন বিদ্রোহীরা।

জেলার সাংবাদিক নেতারা মনে করছেন, অন্যান্য দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে কম সদস্যের অংশগ্রহণে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে। পুরোনো কার্যনির্বাহী কমিটির বাহিরে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন নবীন সদস্যরাও। কয়েকজন ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনাভোটেই নির্বাচিত হয়েছেন। তবে প্রেসক্লাবের ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতি’ ও নানান ‘হিসাব-নিকাশের’ যদি বাঁকবদল না হয় তবে টানা পঞ্চশবারের মতো রুবেল-আনোয়ারই হয়তো এবারও নির্বাচিত হতে পারেন।

সারাবাংলা/এনএস