খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে পাহাড়ি বনাঞ্চল। প্রাকৃতিক এসব বনের কাঠ জ্বলছে ইটভাটায়, তামাকের চুলায়। ব্যবহৃত হচ্ছে বাণিজ্যিক কাজে। নির্বিচারে গাছ কাটায় নেমে আসছে পরিবেশগত বিপর্যয়।
খাগড়াছড়িতে শত বৃক্ষের প্রজাতি নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক বন, যা অশ্রেণিভূক্ত বন হিসেবে পরিচিত। পার্বত্য এলাকায় সংরক্ষিত ও সৃজিত বন ছাড়া বাকিটা প্রাকৃতিক বন। শুষ্ক মৌসুমে টানা ৫ মাস ধরে চলে এসব বনের বৃক্ষনিধণ।
গাছ কাটা শ্রমিকরা জানান, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে গামারি, সেগুন, জাম, কাঁঠাল ও আম গাছসহ অনেক ধরনের গাছ কাটা হয়। এসব গাছ চলে যায় পার্শ্ববর্তী মিল কারখানা ও ইটভাটায়। আর যেসব দামী কাঠ আসবাবপত্র বানাতে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো শহরে চলে যায়।

বনবিভাগের অবহেলাসহ নানা কারণে বন ধ্বংস হচ্ছে। বনের গাছ কাটা রোধে কঠোর পদক্ষেপ চান পরিবেশ নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা। এ বিষয়ে এডভোকেট রতন কুমার দে বলেন, বনবিভাগ আছে, প্রশাসন আছে। তারা যদি সঠিক পদক্ষেপ নিতেন, তাহলে বন উজার হতো না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা দেখি প্রতি বৃহস্পতিবার ব্যাপক পরিমাণ কাঠ বাজারে ওঠে বিক্রির জন্য, তা কোথা থেকে আসে? প্রশাসন, বনবিভাগ কি এসব দেখে না? তাদের কাজটা কী?
এডভোকেট আবদুল মোমিন বলেন, ‘শুধু ইটভাটার জন্য বন উজার হচ্ছে, তা না। এখানে কাঠ ব্যবসায়ীরা আছে। তারা নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলছে। এতে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, পানি নষ্ট হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, বনাঞ্চলকে রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে পরিবেশও রক্ষা পাবে, কাঠের অপচয়ও কমবে।

বনবিভাগের অনুমতি ছাড়া অশ্রেণীভূক্ত বনের গাছ কাটার কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, ইটভাটায় অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানোতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে। কেউ যদি তারপরও এসব করে তাহলে আমরা অভিযান পরিচালনা করব এবং স্থায়ী প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বনের গাছ কাটা বন্ধে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান জোরদার করা হবে।
পার্বত্য এলাকায় নির্বিচারে বন ধ্বংস বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রয়োগ করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবেশ কর্মীরা।