ঢাকা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে ভারত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালানের নতুন রুটের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। নতুন এই রুটে ঢাকায় অস্ত্র নিয়ে এসে ডিবির হাতে ধরা পড়েছে পাঁচজন। এ সময় ৮টি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার এসব তথ্য জানান।
হাফিজ আক্তার বলেন, গতকাল বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দারুস সালাম থানার গাবতলী এলাকা থেকে যশোর থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার থেকে ওই পাঁচ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। ওই গাড়ি থেকেই অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আকুল হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, আব্দুল আজিম, ফারুক হোসেন ও ফজলুর রহমান। এর মধ্যে আকুল হোসেন মুলহোতা, বাকীরা তার সহযোগী।
ডিবির প্রধান আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাস্যবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছে, আকুল হোসেন ২০১৪ সাল থেকে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এখন পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০০টিরও বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছেন তিনি। প্রত্যেকটি অস্ত্র ভারতে তৈরি। পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা থেকে অস্ত্রগুলো চোরাই পথে নিয়ে আসতেন আকুল হোসেন।
হাফিজ আক্তার বলেন, অস্ত্রগুলো ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় কিনতেন। আর ঢাকায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। আকুল হোসেন প্রফেশনাল অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিষয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক কিছু জানা যাবে। ঢাকায় কার কার কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছে তাদের নাম জানার চেষ্টা চলছে। অনেকের নাম পাওয়া গেছে সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, এসব অস্ত্র কারা কোথায় ব্যবহার করত তা জানার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি জমি দখলে কিছু অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। সেই অস্ত্র এদের কাছ থেকে এসেছিল কি না- তাও জানার চেষ্টা থাকবে। আবার কোনো রাজনৈতিক দল, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও জঙ্গিদের সরবরাহ করা হয়ে থাকলেও বের করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, আকুল হোসেন অস্ত্র ব্যবসা ছাড়াও তক্ষক প্রতারণা, সীমান্ত পিলার, সাপের বিষ, সোনা চোরাচালান, প্রত্নতাত্ত্বিক মূর্তি, ইয়াবা ও আইস মাদক ব্যবসা করতো। তার নামে যশোরে এখন পর্যন্ত ৮টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিবির গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের পর যশোর নতুন রুটে অস্ত্র ঢাকায় নিয়ে এসে বিক্রি করা হয়। এটা জানার পর বহুদিন ধরে এই চক্রটাকে ধরতে কাজ করা হচ্ছিল। অবশেষে অস্ত্র চোরাচালান চক্রটি পাকরাও হয়েছে। একসঙ্গে এত অস্ত্র এর আগে কখন ধরা হয়নি।