উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় মাহমুদুল হক মিন্টুকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার মোহছেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। স্থানীয় একটি রেঁস্তোরায় পটিয়ার আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদের সংগঠন ইসকুল বেলা’৯৬ এর উদ্যোগে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এসময় বন্ধুদের পক্ষ থেকে মাহমুদুল হককে ফুলের তোড়া ও সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আলী আক্কাস চৌধুরী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহমুদের পাঠদানের ভিডিও দেখেছি, এক কথায় অসাধারণ। নানা সীমাবদ্ধতার পরও এমন অনন্য কাজ করে সে আমাদের সবাইকে সম্মানিত করেছে। যোগ্য ও সুশিক্ষিত সুনাগরিক তৈরিতে তার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
ইসকুল বেলার উপদেষ্টা ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা অপারেশন ম্যানেজার আমীর হুসাইন এই অর্জনের জন্য সাধুবাদ জানান মিন্টুকে। তিনি বলেন, ‘মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা। সেই কারিগররা যদি যথার্থ না হয়। তাদের গাথুঁনি যদি সুন্দর না হয়। ওই শিক্ষকতাই আমাদের দরকার যার মধ্য দিয়ে একটা ছাত্র বা ছাত্রী মনে করবে আমি স্যারের ক্লাসটা কখন করব। আনন্দ নিয়ে পাঠ করব। বাচ্চাদের মধ্যে এই ব্যাপারটা সে ঠিকঠাক জাগিয়ে তুলতে পেরেছে, ঠিক এই জায়গাতেই সে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।’

স্কুল বন্ধুদের এসন আয়োজনে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান মাহমুদুল হক মিন্টু। প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, নিজ কর্মের প্রতি ভালবাসা থাকলে সেখানে অবশ্যই পরিবর্তন আনা সম্ভব। শিক্ষকতা জীবনে এসেই কঁচিকাঁচা সোনামণিদের ভালোবাসায় পেশাটাকে আপন করে নিয়েছি। অনুধাবন করেছি, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা দিয়েই শেখাতে হবে। আমার স্কুলের সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে সহজ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তারা এখন অধীর আগ্রহে আমার স্যারের ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করে। আমার শিক্ষকতা জীবনের এটাই সবচেয়ে বড় সফলতা। স্কুল বেলা’ ৯৬ আমাকে আজ যে সম্মানে সম্মানিত করেছে তা স্মৃতির পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখব। আমার এই অর্জন তোমাদের অনাগত প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করলাম।
সমাপনী বক্তব্যে ইসকুল বেলা’৯৬ এর সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রিয় বন্ধু মিন্টু উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার এই অর্জন আমাদের অর্জন। আমি আশাবাদী আগামীতে সে জাতীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের গৌরব অর্জন করবে।’