রংপুর: উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রমের করেছে। এরইমধ্যে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে, এতে পানিবন্দী প্রায় আড়াই হাজার পরিবার। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড আগামী ৩ দিনের মধ্যে তিস্তা অববাহিকার ৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তার পানি বাড়ছে। রংপুরের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির বিপৎসীমা হচ্ছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার (এমএসএল)। আজ সন্ধ্যা ৬টায় সেখানে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপৎসীমার ০৭ সেন্টিমিটার ওপরে।
অপরদিকে, কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া রংপুরের ঘাঘট ও যমুনেশ্বরী নদীর পানিও উজানের ঢলে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, আগামী তিন দিন তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এরইমধ্যে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে, যেখানে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবহাওয়া অফিস রোববার ও সোমবার রংপুর বিভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিস্তাপারের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।