ঢাকা: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই এবং আগস্টের প্রথম ১৯ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে মোট ৪৮৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৪০৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু আগস্টের প্রথম ১৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের আগস্টের একই সময়ে এসেছিল ১৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ২৯ দশমিক ১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ১৯ আগস্ট এক দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর ফলে আগস্ট মাসের ১৯ দিনেই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৪৮৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৪০৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
এদিকে রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও রিজার্ভের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রবাসী আয় বাড়ায় বৈধ পথে ডলারের সরবরাহ বাড়ছে। এতে আমদানি দায় পরিশোধ ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসেও রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। আগস্টের প্রথম ১৯ দিনের হিসাবেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ গত অর্থবছরের তুলনায় বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বড় অংশ দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের ভোগ ও সঞ্চয়ে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর সুযোগ বাড়ানো, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বিভিন্ন সুবিধা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কার্যক্রম—এসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্সে মাসিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ। আর জুলাই ২০২৬ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব করলে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।
ফলে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয় ২০ শতাংশের বেশি হারে বাড়ায় অর্থনীতির জন্য এটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।