ঢাকা: ২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডিত চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
আপিলকারীরা হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল। এর মধ্যে আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং শরিফুল ইসলাম ও রাফিউল হাসান রাসেল পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত।
এর আগে, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচজনকে ১০ বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং ১১ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া একজনের হাজতবাসের সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
মামলার তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরের পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
এ ছাড়া ১০ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান, সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। তারা সবাই পলাতক।
পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, ছাত্রলীগ নেতা এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ, মাসুদুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মাহাবুবার রহমান এবং স্বাচিপ নেতা ডা. সারোয়ার হোসেন।