Sunday 12 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শাহজালাল মাজারে ১৮ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা, রয়েছে ১৩ দেশের মুদ্রা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১২ জুলাই ২০২৬ ১২:৪৩

সিলেট: সিলেটের শত বছরের ঐতিহাসিক হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে দ্বিতীয় দফায় গণনা শেষ হয়েছে।

গত ১৮ দিনে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। প্রকাশ্যে দিনভর দীর্ঘ গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গণমাধ্যমে এই গণনার ফলাফল ঘোষণা করেন।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ডেগ ও নতুন দানবাক্সগুলো থেকে ৪ বস্তা টাকা বের করে গণনা শুরু হয়। শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এই টাকা গণনা কার্যক্রমে অংশ নেয়।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট কমিটির অফিশিয়াল হিসাবপত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দানবাক্সে নগদ বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি সোনা-রূপা, গবাদি পশু এবং বিশ্বের ১৩টি দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়।

১৩ দেশের বিদেশি মুদ্রার হিসাব:
সৌদি আরব- ১৩৫ রিয়াল; ভারত- ২ হাজার ৫৩২ রুপি; সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)- ৫৪.২০ দিরহাম; ওমান- ১ দিনার ৪৫০ পয়সা; ইন্দোনেশিয়া- ৪ হাজার রুপিয়া; আমেরিকা (ইউএসএ)- ২০ ডলার; হংকং- ২০ ডলার; ইউরোপীয় ইউনিয়ন- ২০ ইউরো; সিঙ্গাপুর- ১০ ডলার; কাতার- ২২ রিয়াল; মালয়েশিয়া- ৬ রিঙ্গিত এবং পাকিস্তান।

সোনা ও রূপার হিসাব:
নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে মূল্যবান অলংকার ও ধাতু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনা ৯ গ্রাম; স্বর্ণসদৃশ বস্তু ১০ গ্রাম; এবং রূপা ৩৯.৪ গ্রাম।

মাজারে দানকৃত গবাদি পশুর বিবরণ:
সর্বশেষ গণনার দিন থেকে আজ পর্যন্ত মাজারে ভক্তদের দান করা গবাদি পশুর হিসাবও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে। একটি গরু যা লঙ্গরখানায় রান্না করে মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ছাগল পাওয়া যায় মোট ৬৫টি। এর মধ্যে ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

টাকা গণনার সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাজার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় মাত্র ৪ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল। প্রথমবার ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য বেশি থাকলেও, এবার ১৮ দিনের মাথায় সংগৃহীত টাকার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ১০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট নোটের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ কমিটির অধীনে এই অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর