বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি ‘চেক বাউন্স’ বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেয়েছেন। দিল্লি হাই কোর্ট শুক্রবার এই অভিনেতাকে তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের রায় শুনিয়েছে এবং সেই সাথে তার বকেয়া অর্থ অবিলম্বে পরিশোধ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। ‘হঙ্গামা’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘চুপ চুপ কে’ এবং ‘মালামাল উইকলি’র মতো অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে কোটি দর্শকের মুখে হাসি ফোটানো এই তারকার ব্যক্তিগত জীবনের এই আইনি সঙ্কট এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় গুগলের ট্রেন্ড ও সার্চ তালিকার শীর্ষে চলে এসেছে, যা সারাবাংলা ডট নেট সহ বিনোদন জগতের প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এই জটিল মামলার সূত্রপাত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ষোলো বছর আগে, ২০১০ সালে। নিজের পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘অতা পতা লাপতা’ নির্মাণের উদ্দেশ্যে ‘মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল যাদব। পরবর্তীতে সেই ঋণ পরিশোধে চরম অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং উক্ত সংস্থাকে দেওয়া অভিনেতার একাধিক চেক বাউন্স করায় তার বিরুদ্ধে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস’ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সময়ের সাথে সাথে সেই ঋণের অঙ্ক সুদসহ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালে আদালত রাজপাল যাদব এবং তার স্ত্রী রাধাকে দোষী সাব্যস্ত করার পর তারা দায়রা আদালতের দ্বারস্থ হলেও কোনো বিশেষ স্বস্তি মেলেনি। আদালত শুনানির সময় তাকে একাধিকবার বকেয়া মেটানোর সুযোগ দেয় এবং ২০২৪ সালেও সাজা সাময়িক স্থগিত রেখে ঋণ শোধের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজপাল যাদব তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি এবং চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও এই মামলায় তাকে কয়েক দিনের জন্য জেলে যেতে হয়েছিল। জেল থেকে মুক্তির পর রাজপাল জানিয়েছিলেন যে আর্থিক সঙ্কটের সেই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো বন্ধু বা অর্থ ছিল না, যদিও পরবর্তীতে বলিউডের একাধিক ব্যক্তিত্ব তাকে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন। তবে এত সুযোগ এবং সহায়তা পাওয়ার পরেও বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় এবং আদালতের সাথে করা প্রতিশ্রুতির খেলাপ করায় বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণের পর রাজপাল যাদবকে এখন এই তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে।