Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জুলাইয়ের শত্রুরা এখনো সক্রিয়, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে: শফিকুল আলম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪১

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তবে জুলাইয়ের বিরোধী শক্তি এখনো পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, এই বিরোধী শক্তিগুলো দেশের বাইরে বিপুল অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে নতুন ধরনের বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে। তাই জুলাইয়ের মূল শক্তিকে সবসময় সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুল আলম বলেন, আমরা সবাই এখনো জুলাইয়ের মূল শপথের মধ্যেই আছি এবং জুলাইয়ের যে লক্ষ্য ছিল, তার প্রাথমিক বাস্তবায়ন জুলাই-আগস্টেই সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আরও অনেক কাজ হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে জুলাইয়ের শক্তিগুলোই সেই প্রধান লক্ষ্যকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের শত্রুরা কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই এবং তারা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, সেই অর্থ ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে ।

তিনি বলেন, দেশেও তাদের অনুসারীরা প্রতিনিয়ত নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, তাই কারা জুলাইয়ের সময় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং কারা বাংলাদেশকে দাসত্বে রাখতে চেয়েছিল, সেই স্মৃতি আমাদের কখনো ভুলে গেলে চলবে না।

ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের পৃথিবীর যেখানেই অবস্থান হোক না কেন, তাদের অবশ্যই দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য একটি শক্তিশালী তদন্ত সংস্থা গঠনের পাশাপাশি বিদেশে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

যারা শহিদ আনাস, জাবের, ফাইয়াজ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের কারও বিরুদ্ধে আমরা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, বরং সুনির্দিষ্ট বিচার চাই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করতে প্রয়োজনে ১০ বছর, ২০ বছর কিংবা ৩০ বছর সময় লাগলেও সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে এমন একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো হত্যাকারী বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ভবিষ্যতে আর কখনোই রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হতে না পারে। জুলাই আমাদের খুব ভালোভাবে শিখিয়েছে কীভাবে দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে নিজেদের প্রকৃত আত্মমর্যাদা ফিরে পেতে হয়।

অনুষ্ঠানে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর