কক্সবাজার: টানা চার দিনের অতি ভারী বর্ষণে কক্সবাজারজুড়ে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার অধিকাংশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছে সড়ক যোগাযোগ, বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব নৌপথ। পাহাড়ধস ও বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন। জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা ও বন্যাকবলিত নিচুতলার বাসিন্দাদের অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও ঢেউটিন মজুত রয়েছে এবং অতিরিক্ত চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত তিন দিনে জেলায় মোট ৬৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে বর্তমানে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, স্বল্প সময়ে এই অতিবৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং আগামী কয়েক দিনও এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১০টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন দুর্যোগে বিপর্যস্ত। অন্তত এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী, সুগন্ধা, হোটেল-মোটেল জোন, বাজারঘাটা, তারাবনিয়াছড়া, আলীরজাহাল ও বাস টার্মিনাল এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢোকার পাশাপাশি তলিয়ে গেছে অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে সাগর উত্তাল থাকায় টানা ছয় দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার-মহেশখালী ও পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথেও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
যেকোনো দুর্যোগকালীন জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২-৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে না যাওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।