ঢাকা: বিএনপি সরকার জুলাই সনদ নিয়ে অন্তহীন প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ‘১১ দলীয় ঐক্য’।
সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা জনগণের জনমতের ওপর প্রশ্ন তুলছে, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আমরা নির্বাচন চেয়েছিলাম, ষড়যন্ত্র চাইনি। কিন্তু নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে জামায়াতসহ ১১ দলকে হারানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচয় ছিল নিরপেক্ষ ও দল নিরপেক্ষ। কিন্তু, তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল এবং পরে বিষয়টি স্বীকারও করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল সেদিন বিদ্রোহ করলে বা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো এবং এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াত তা কেউ জানে না। এই কারণে ১১ দল চরম দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।’
বিএনপি নিজেদের দেওয়া কথা না রেখে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আমরা বিস্মিত হলাম যে, জাতীয় সংসদের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতারণার আত্মস্বীকৃত সাক্ষী পাওয়া যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভালো হয়েছে জাতি চিনে ফেলছে এবং এখন আর অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল, জুলাই চার্টার একটি অন্তহীন প্রতারণার দলিল এবং এই সংসদে দাঁড়িয়েই আবার প্রমাণ করল যে, তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তারা বলে এই গণভোটের চারটি প্রশ্ন তারা নিজেরাই বোঝে না, তাহলে সাধারণ জনগণ বুঝবে কীভাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চারটি প্রশ্ন যদি জনগণ না বোঝে, তাহলে বিএনপির ৩১ দফা বুঝল কীভাবে। রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের সুবিধামতো অবস্থান পরিবর্তন করে, তাহলে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে। রাজনৈতিক দল যদি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে ভবিষ্যতে জনগণ আর তাদের সম্মান করবে না ।’
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তারা সংসদের ভেতরে চিৎকার দেবেন এবং রাজপথেও সমানতালে আন্দোলন চলবে যা আরও বেগবান হবে। তিনি বলেন, ‘লোহা গরম হয়ে লাল হতে একটু সময় লাগে। কিন্তু, লাল যখন হবে তখন জনগণ হাতে মুগুর নিয়ে ঠিকমতোই পেটাবে।’
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে মজলুম ছিলাম এবং আন্দোলন, সংগ্রাম, নির্বাচন ও সরকার পরিচালনা করেছি। এখন আমাদের কোনো কোনো বন্ধুর ভাষা ও বক্তব্যে মনে হয় তারা জীবনে আমাদের কোনো দিন দেখেননি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘নতুন হোক বা পুরোনো হোক, কোনো ফ্যাসিবাদ তারা মেনে নেবেন না এবং জেল বা জুলুমের ভয় তাদের যেন দেখানো না হয়।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে সে ব্যাপারে সবাইকে সংযত হতে হবে এবং কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমান করার দুঃসাহস দেখালে এই যুবসমাজ ও জনতা চুপ থাকবে না।’ এ সময় জনগণের অধিকার নিয়ে সরকারকে ছাড় না দেওয়ার কথা জানান জামায়াত আমির।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অব অলি আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, ‘এগারো দল আপনার শত্রু নয় এবং আমরা আপনার ও দেশের কল্যাণ চাই।’ তিনি বলেন, ‘আপনার চারদিক শত্রু দ্বারা বেষ্টিত এবং আপনি ঢাকার বাইরে রাত্রি যাপন করবেন না।’ তিনি আরও বলেন, দেশের মঙ্গল ও আপনার কল্যাণের জন্য সংস্কারের বিষয়গুলো মেনে নিন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। সেমিনারে ‘১১ দলীয় ঐক্য জোট’র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অংশ নেন জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা।