ঢাকা: বিকল্প ব্যবস্থা না করেই আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ রাখায় প্রায় ৭৫০ জন মেডিকেল ও সমপরিমাণ নার্সিং শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, শুধু বই পড়ে ডাক্তার বা নার্স হওয়া সম্ভব নয়, তাদের জন্য ব্যবহারিক শিক্ষা ও রোগীর সান্নিধ্য অপরিহার্য। হাসপাতালের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি মানবিক কারণে দ্রুত হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে রেগুলেটরি সংস্থাগুলো যতটা তৎপর, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ততটাই নিষ্ক্রিয়। অপরাধ যেখানেই হোক, সরকার উভয় খাতকেই সমান চোখে দেখবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া, মাঝপথে হাসপাতাল বন্ধের মতো অস্থিতিশীল সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়াশোনায় অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ৮৫ হাজার টাকা খরচে যাওয়ার কথা থাকলেও সিন্ডিকেট চক্র নিরীহ কর্মীদের কাছ থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি এই সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়া তিনি ঢাকা-১৫ আসনের পানি সংকট, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ধীরগতি এবং ভোলার ভাগ্য পরিবর্তনে ‘ভোলা সেতু’ নির্মাণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
জুলাই বিপ্লবের শহিদ ও বীরদের রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিগত সময়ে গুম, খুন ও জুলুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি ইনসাফ নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দেশবাসীকে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদদের নামের পেছনে না ছুটে কাজের পেছনে ছোটা উচিত।