Sunday 28 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা জরিপ দ্রুত শেষ হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুন ২০২৬ ১৫:৫৬

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ফাইল ছবি

ঢাকা: তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি) জরিপ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, চীনের কারিগরি সহযোগিতায় যৌথভাবে এই জরিপ শেষ করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার (২৮ জুন) চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি জানান, তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় চীন সম্মতি দিয়েছে। যৌথ উদ্যোগে এই সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে সরকার আশাবাদী।

বিজ্ঞাপন

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা ছাড়াও দেশের অন্যান্য নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। চীনের সহায়তার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে এবং দ্রুত জনগণের সামনে পরিকল্পনাটি তুলে ধরা হবে। চলতি বাজেটেই এ প্রকল্পের কাজ শুরুর লক্ষ্যে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে একাধিকবার তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। এ ছাড়া চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের উপস্থিতিতেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিস্তা অববাহিকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী লাখো মানুষ নানাবিধ দুর্ভোগের শিকার। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সে কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কারিগরি সহায়তা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় চীন সম্মতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফরের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর শেষে চার দিনের সফরে চীন যান। সফরের প্রথম দুই দিন তিনি ডালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং, পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করেন। সব বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টা সফরে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর