ঢাকা: বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ইন্ডিয়া কোনোদিন আমাদের বলেনি যে, পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলবে। উইলিংলি গিয়ে আমার কথা বলার দরকার কি, আমাকে তো বলে নাই।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত ‘জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ইন্ডিয়া কোনোদিন আমাদের বলেনি যে, পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলবো। উইলিংলি গিয়ে তাদের সঙ্গে আমার কথা বলার দরকার কি? আমাকেতো বলে নাই। সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করেছে আমি বললাম আলোচনা হলো গঙ্গা চুক্তি নিয়ে। আমি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে কথা বলছি।
তিনি বলেন, প্রতি বছর দুই মাস পর পর গঙ্গা চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষের জেআরসির বাইরেও দুই দেশের এক্সপার্ট টিম বিভিন্ন সময় পানির হিস্যা, প্রতিমাসে পানি কতটুকু আসছে, ৪০ হাজার কিউসেক যাওয়ার পর যেটা বাকি থাকে সেটা কিভাবে কি হচ্ছে, মাপের হিসাবটা, উজানে ভাটিতে ব্যালেন্সটা কি হচ্ছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রতিনিয়ত কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটা বিশেষজ্ঞ টিম কলকাতা গিয়েছেন। তারা ফারাক্কা ব্যারেজের ওখানে গিয়েছেন। আলোচনা করেছেন, মিটিং করেছেন। তারা এসে আবার রিপোর্ট দেবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও কাজ হবে। আমাদের জেআরসির বিশেষজ্ঞ টিম, মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ শুরু করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় খোঁজ খবর রাখছেন, প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মিটিং করছেন। ১৬/১৭ ঘণ্টা উনি কাজ করেন। শুক্রবার উনি মন্ত্রণালয়ে যান, শনিবার যান। এভাবে কন্টিনিউ করে আমরা নিজেরাও কিন্তু একটার পর একটা মিটিং করতেছি। একটামাত্র কারণ, এই বাংলাদেশটাকে নতুনভাবে গড়তে হবে। আমার বিশ্বাস আপনাদের যথেষ্ঠ আন্তরিকতা রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে আপনারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। জাতির প্রয়োজনে আমরা সবাই আন্দোলন করে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এসেছি। এই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের আরও বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ আমাদের প্রয়োজন বিধায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন। আমার সবাই মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, আমাদের ভুল হতে পারে, সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি। কিন্তু কথায় কথায় রাস্তা ব্লক করে দেব, রাস্তায় বেরিকেড দেব, ১৭২ দিন ১৭৩ দিন হরতালও আমরা দেখেছি। সেগুলো মোকাবিলা করে আমরা এখানে এসেছি। সুতরাং আজকে যারা বিভিন্ন জায়গায় গণতান্ত্রিক নিয়মের বাইরে অগণতান্ত্রিক চিন্তা করছেন এদের স্লোগান এক সময় ছিল বিপ্লব বিপ্লব ইসলামী বিপ্লব। এরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। বিধায় ওই ধরণের স্লোগান দিয়ে এভাবে নয় ছয় করে এখানে পর্যন্ত এসেছে। সুতরাং দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে সবাইকে এলার্ট হওয়া উচিত।
নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন সামসের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিমসহ অন্যান্যরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিভারাইন পিপল এর চেয়ারম্যান শেখ রোকন।