Wednesday 06 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

উপকূলবাসীকে রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫৪ | আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৯

ঢাকা: উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সরকার বহুমুখী ও সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এর অংশ হিসেবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী তৈরি এবং পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার স্থাপনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘উপকূল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে উপকূলীয় জনপদকে বেঁচে থাকতে হয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও প্লাবনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে উপকূলবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল আঘাত হানা ইতিহাসের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেই সময়েও তৎকালীন সরকার অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিল। আজকের এই দিনে সেই সময়ের দুর্যোগের ভয়াবহতাকে স্মরণ করে উপকূলের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, বর্তমান সরকার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে নতুন মাত্রায় পুনরুজ্জীবিত করার কাজ শুরু করেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল, পুকুর ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন করার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতিসহ সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যাবে।

এছাড়াও উপকূলীয় অঞ্চলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় বনায়ন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। উপকূলীয় এলাকায় এই সবুজ বেষ্টনী প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে, যা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সেমিনারে বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলের সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে তা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেন।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর