Wednesday 06 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাবি উপাচার্য দফতরে ফুল-উপহার নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

রাবি করেসপন্ডেন্ট
৬ মে ২০২৬ ১৫:৫২

উপাচার্য দফতরের সামনে টাঙানো নোটিশ।

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য দফতরে ফুল ও উপহার নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে কার্যকর ও সময়োপযোগী যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের নির্দেশনায় সম্প্রতি উপাচার্য দফতরের সামনে ‘ফুল এবং উপহার নিয়ে প্রবেশে নিষেধ’ লেখা একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শুভেচ্ছা জানাতে আসা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের ফুল ও উপহার না আনার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।

বিজ্ঞাপন

উপাচার্য দফতর সূত্রে জানা যায়, এ উদ্যোগের ফলে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও আনুষ্ঠানিক ব্যয় কমবে। পাশাপাশি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ আরও সহজ ও কাজকেন্দ্রিক হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

উপাচার্যের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, উপাচার্যের এমন সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

এমন উদ্যোগ শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, বাংলাদেশের সকল সরকারি দফতর প্রধানদের নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন এ অধ্যাপক।

এগ্রোনমি অ্যান্ড এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। ফুল বা উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা তৈরি করে, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কাম্য নয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে যে, ব্যক্তিগত তোষামোদ নয়, বরং যোগ্যতা ও কাজই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের একান্ত সচিব শাহজাহান আলী জাকির বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য আসার পর থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন আগের মতো কাউকে ফুল বা উপহার নিয়ে আসতে দেখা যায় না। আর যদি কেউ এগুলো নিয়েও আসেন, সেটি উপাচার্য স্যার গ্রহণ করেন না।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কাজকেন্দ্রিক হোক। আমি চাই মানুষ আমাকে কাজ দিয়ে মূল্যায়ন করুক; ফুল বা উপহার দিয়ে নয়। আমি আগেই কারও কাছ থেকে ধন্যবাদ নিতে চাই না। সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি, যেদিন আমার দায়িত্ব শেষ হবে এবং মানুষ আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। আমি চাই, সবাই সরাসরি কাজের বিষয়ে কথা বলুক—এটাই হোক আমাদের নতুন প্রটোকল।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা অতিথিদের সম্মান জানানোর জন্য আন্তরিকতাই যথেষ্ট। এর জন্য বাহ্যিক কোনো উপকরণের প্রয়োজন নেই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি ইতিবাচক ও বাস্তবধর্মী প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর