ঢাকা: দেশের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৮৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১টি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সলের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বের কার্যবিবরণীটি সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সামগ্রিক মৎস্য খাতের দৃশ্যমান উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিশেষায়িত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী বিভাগে জলবায়ু সহনশীল মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, ময়মনসিংহ বিভাগে টেকসই মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, খরা-প্রবণ রংপুর বিভাগে টেকসই মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ প্রকল্প, বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ জরিপ প্রকল্প, নির্বাচিত বাঁওর এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ জরিপ ও মজুত নিরূপণ জোরদারকরণ প্রকল্প।
এছাড়া দেশের প্রকৃত জেলেদের একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত এবং একইসঙ্গে বিলুপ্ত ও পরিত্যক্ত জলাশয়গুলো সংস্কার করে মাছ চাষের আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মন্ত্রী বলেন, মৎস্য অধিদফতর তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারাদেশে জেলেদের তালিকা প্রণয়ন এবং মৎস্যজীবী কার্ড প্রদান করে থাকে। বর্তমানে ‘জেলে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান নির্দেশিকা-২০১৯’ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি অঞ্চলে জেলেদের তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই নির্দেশিকা অনুসরণ করে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধন কার্যক্রম দেশজুড়ে অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং যার ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ১৮ লাখ তিন হাজার ৫৬৫ জনে।
প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশি পাঙ্গাস ও পোয়া মাছের স্থায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, চা-বাগান ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টিমান উন্নয়নে মৎস্য সম্প্রসারণ প্রকল্প, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প, হাওর অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জলাশয় সংস্কার ও আবাসস্থল উন্নয়ন প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক পরিকল্পনাগুলো সফল করতে মোট ১ হাজার ৮৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। হবিগঞ্জ জেলার জন্য পৃথক বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, জেলার জন্য আলাদা কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলেও ‘হাওর অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় হবিগঞ্জ জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এই প্রকল্পের সব ধরনের সুবিধা ওই এলাকার মৎস্যজীবীরা পাবেন।