ঢাকা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ফলে আপাতত তার কারামুক্তির পথ বন্ধই থাকছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে রোববার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম পুলিশের আবেদনের পর আবুল বারকাতকে এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার তার পক্ষে ব্যারিস্টার সারা সোহেন জামিন আবেদন করেন, তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ড. আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করে। পরে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন লাভ করেন তিনি। তবে কারামুক্তির আগেই আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিম।
পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নেতাকর্মীদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন ড. আবুল বারকাত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় একই বছরের ২১ আগস্ট নিহতের শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।