Saturday 13 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানাল ডিবিএ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুন ২০২৬ ১৯:৫৯

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। ফাইল ছবি

ঢাকা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট প্রস্তাবকে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব, সময়োপযোগী বলে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (১৩ জুন) ডিবিএ থেকে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, পুঁজিবাজার সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকেও ডিবিএর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার এবারের বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

তিনি বলেন, ‘বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার যে সুস্পষ্ট নীতিগত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, ডিবিএ তা গভীর সন্তুষ্টির সঙ্গে গ্রহণ করছে।’ বিশেষ করে—পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ; বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি; বাজারের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা; বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ; দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিকল্প উৎস হিসেবে বন্ড বাজারের সম্প্রসারণ; করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুকের উন্নয়নে অগ্রাধিকার প্রদান; যোগ্য ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি সহজতর করতে লিস্টিং প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও সরলীকরণ; তথ্য প্রকাশ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা; করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল বন্ড চালুর কাঠামো তৈরির উদ্যোগ; ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে ইক্যুইটি-ভিত্তিক অর্থায়নের প্রসার ঘটানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত; শক্তিশালী পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বেসরকারি খাতনির্ভর বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা—এসব উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, সীমিত বিনিয়োগ পণ্য এবং ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের চাপে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, নতুন উদ্যোক্তারা মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন এবং কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সরকার ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি আধুনিক, গভীরতা সম্পন্ন ও আস্থাভিত্তিক বাজারে পরিণত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’

তিনি পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন—সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজারে উন্নীত করার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর