বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের মতে, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাজারে বড় ধরনের ধসের পর সূচক যতটা বেড়েছে, পরবর্তী সময়ে তার চেয়েও বেশি পতনের ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন সূচকের পতনের তুলনায় উত্থানের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক ওঠানামার মধ্য দিয়েই লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। সার্বিকভাবে বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে বলেও তারা মনে করেন।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৬ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১১ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৮০ দশমিক ১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসই-তে মোট ৩৯৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৪৬টির শেয়ার ও ইউনিটদর বেড়েছে, ১০০টির কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকেও ছিল ইতিবাচক চিত্র। মঙ্গলবার ডিএসই-তে মোট প্রায় ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর সূচকে উত্থান দেখা গেছে। যদিও লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কমেছে। মঙ্গলবার সিএসই-তে মোট ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার।
সিএসই-তে এদিন লেনদেন হওয়া ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৮টির শেয়ার ও ইউনিটদর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ৭০টির দর কমেছে এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে সিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩১৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে এ সূচক ৮৪ দশমিক ৭০ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছিল।