Wednesday 03 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে মোহাম্মদপুরে নিয়মিত ছিনতাই, গ্রেফতার ২

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ জুন ২০২৬ ১৬:১৪ | আপডেট: ৩ জুন ২০২৬ ১৯:২৭

দুই ছিনতাইকারী- ছিনতাইকারী আনোয়ার হোসেন ও জুয়েল ওরফে আরিফ – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার গেটের সামনে থেকে দুই বোনের কাছ থেকে ব্যাগ ও মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতে গ্রেফতারকৃতরা নারায়ণগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুরে এসে নিয়মিত ছিনতাই করত।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী আনোয়ার হোসেন (২৮)-কে এবং একইদিনে র্যাব-১১ এর সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে জুয়েল ওরফে আরিফ (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এডিসি ফজলুল করিম বলেন, গত ৩১ মে ভোর রাত ৩টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও জেলার নিজ গ্রাম থেকে দুইজন নারী মোহাম্মদপুর থানাধীন নুরজাহান রোডস্থ এম গলি বাসা নং- এম ২৬-এর বাসার সামনে আসা মাত্রই একটি পিক যোগে অজ্ঞাতনামা ৩ জন আসামি তাদের হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দেখিয়ে সবকিছু বের করে দেওয়ার জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামীরা ২ জন নারীর ব্যবহৃত মোবাইল, ১টি স্বর্ণের চেইন, ১টি হাতের ব্রেসলেট, ১টি পায়ের পায়েল, ২টি কানের দুল, দুইটি হাতের আংটি, সর্বমোট ওজন ১.৫ ভরি, নগদ ৫৫ হাজার টাকা, ব্যবহৃত জামাকাপড় ও ব্যবহৃত প্রসাধনীসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১ জুন মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করা হয়।

সিসি ফুটেজে ছিনতাইয়ের চিত্র -ছবি : সংগৃহীত

তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের অবস্থান সনাক্ত করে। এরপর তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে তার দেখানো মতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাই হওয়া ২টি ব্যাগ, কিছু প্রয়োজনীয় কাপড় এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ১টি চাপাতি, ১টি ট্রাক জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত জুয়েল ওরফে আরিফের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২টি দস্যুতা, দুইটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং একটি ডাকাতি মামলাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রটি মোহাম্মদপুর থানা এলাকাসহ ঢাকা শহরে বিভিন্ন এলাকায় দলগতভাবে ছিনতাই করে থাকে এবং ছিনতাইকৃত মালামাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রয় করে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

এডিসি ফজলুল করিম বলেন, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপের চালক ও মালিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। গ্রেফতার হওয়া দুজনের মধ্যে জুয়েল চাপাতি হাতে ছিলেন এবং আনোয়ার ব্যাগ পিকআপে তুলেছিলেন। এ ছাড়া, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি বলেন, মোহাম্মদপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড ও ভোরে যাত্রী নামার স্থানগুলোতে মোবাইল ও টহল দল সক্রিয় রয়েছে।