ঢাকা: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এ বিষয়ে ওনাদের দুজনের (তারেক রহমান ও খলিলুর রহমান) আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হবে।
বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান-কে যদি নিবেদিতভাবে ওনার এই কাজটা করতে হয় (জাতিসংঘের সভাপতির কাজ) তাহলে ওখানে (জাতিসংঘে) সময় দিতেই হবে। তার মানে এই নয় যে, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমি মনে করে, এটা ওনাদের দুজনের (প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সিদ্ধান্তে হবে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস। সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দুই প্রার্থীকে ভোট দেন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১৯০টি। খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং সাইপ্রাসের কাকোরিস ৯১ ভোট পেয়েছেন। ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়েছেন খলিলুর রহমান।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তিনি এক বছরের জন্য সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এক বছরের ছুটি নিচ্ছেন কিনা-এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, সেটা উনি (খলিলুর রহমান) সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সেটা নিশ্চয় আপনারা জানবেন।
গুঞ্জন উঠছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছর খলিলুর রহমান নিউইয়র্ক থাকবেন। তার পরিবর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলানোর জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসবেন। এমন প্রশ্নও করা হয় প্রতিমন্ত্রীকে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে অবগত নই, আমি কিছুই জানি না। আমি মনে করি, এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। ওনার সুদৃঢ় নেত্বেত্বে যখন আমরা এই বিজয় অর্জন করতে পেরেছি তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে চলবে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন, সমস্যা নেই।
দায়িত্ব আপনার ওপর আসতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে খুশি আছি।’