ঢাকা: ঈদের ঘরমুখে মানুষের দুর্ভোগ হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, এবারের ঈদে সবাই নির্দিষ্ট সময়ে তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে এবং তারা ঈদের নামাজ আদায় করে কোরবানি দিয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, মীর সরাফত আলী সপু, জাসাস নেতা এমএ মালেক, জাকির হোসেন রোকন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতের অনেক সময়ের তুলনায় বর্তমান সরকারের আমলে আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অনেক ভালো। কারণ এখানে খুব ক্লোজ মনিটরিং রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটা মোটামুটি পর্যায়ে আছে; কেননা একটি রাষ্ট্র, সমাজের তো সবাই ফেরেশতা হয়ে যাবে না। কিন্তু এর আগে কী ভয়াবহ যানজট হয়েছে। কীভাবে এই গরুর হাটগুলোতে চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। কিন্তু এবারে শক্ত হাতে সেগুলো দমন করা হয়েছে।
কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশংসা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, দারুণভাবে কাজ করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। বিকেলের মধ্যে বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় ঢুকে মেইন রোডের ধার দিয়ে, যেখানে কোরবানি হয়েছে সেই বর্জ্যগুলো তুলে নিয়েছে। আগে তো আমরা এরকম দেখিনি। তার মানে সরকার সবকিছুই খুব দৃঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যেখানে সমস্যা হচ্ছে সেই সমস্যা নিরসনে দ্রুতগতিতে সেখানে কাজ করছে।
রিজভী বলেন, রামিসাকে নিপীড়নের পর হত্যার ঘটনা জানেন। কীভাবে প্রধানমন্ত্রী সেখানে ছুটে গেছেন। তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছেন এবং অতি দ্রুত আদালত বিচার করবেন।
বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আপনারা যদি এই দেশের রাষ্ট্র কাঠামোর অংশ হয়ে থাকেন, এদেশের রাজনৈতিক যে কাঠামো তার যদি অংশ হয়ে থাকেন, তাহলে সেক্ষেত্রে আপনারা সরকারের যেগুলো ভুল হচ্ছে সেটি আপনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু চক্রান্ত করা, ষড়যন্ত্র করা এবং নানাভাবে চক্রান্তের ইঙ্গিত দেওয়া, এটা এদেশের মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেয়নি। ভালোভাবে নেবে না।
জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীতে ৮ দিনের কর্মসূচি
শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতির জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করে রিজভী বলেন, দিবসটি উপলক্ষ্যে আমরা ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ করা হবে।
এ উপলক্ষ্যে এরইমধ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো পোস্টার করবে, আলোচনা সভা করবে। অলরেডি অনেকেই আলোচনা সভার তারিখ দিয়েছে এবং যেসব পেশাজীবী সংগঠন আছে তারাও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
রিজভী বলেন, আগামীকাল ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং সারাদেশে প্রতিটি কার্যালয়ে এই কর্মসূচি পালিত হবে।
বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতিহা পাঠ শেষে প্রধানমন্ত্রী মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের বেশ কয়েকটি স্পটে বস্ত্র এবং শুকনো খাদ্য বিতরণ করবেন।